সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কমিকস পড়া ভালো নয়

এক ফেসবুক বন্ধুর পোস্টে পড়ছিলাম যে তার প্রতিবেশীর 'নির্বোধ' কুকুর সেই প্রতিবেশীর গেটের সামনে শাঁখের করাত হয়ে বসে থাকে - মানে গেট খুলতে গেলেই ব্যাটার ঠ্যাং আটকে যাওয়ার কথা! অনেক বোঝানো-সোঝানোর পরে শেষমেষ তাকে 'গাধা' বললে তবে সে জায়গা থেকে নড়ে|

আমাদের বাড়ি একপাল বেড়াল আছে - তাদের ভিতর একটা হুলোর ঠিক ওরকমই বদভ্যেস আছে - সে এমনি পিছনের গেটের বাইরে চুপচাপ বসে থাকে বটে, কিন্তু আমি স্কুটার বের করতে গেলেই ব্যাটা ঠিক গুটিসুটি মেরে চাকার তলায় এসে গট হবে| বন্ধুর সেই পোস্টে সে বেড়ালের কথা লেখায় সে আমায় জিগ্যেস করলো আমি সে বেড়ালকে ঠিক 'কি' বলি!

যেটা ঘটনা আমি মনে-মুখে-এক মানুষ - মানে সেরকম সেন্সর বা ফিল্টারেশণ করে কথা বলা হয়ে ওঠে না আর কি, তবে যেহেতু 'বাড়িতে' কাজেই বাবা-বাছা করে সে ব্যাটাকে হঠাতে হয়|

মনে-মুখে-এক প্রসঙ্গে আমার ছেলেবেলার একটা গপ্পো মনে পড়ে গেলো, তাই ভাবলাম যে সেটা সকলকে জানানো যাক| আশা করি এই গপ্পো থেকে কচি-কাঁচাদের বাবা-মায়েরাও কিছু শিক্ষা নিতে পারবেন|

অনেক অনেক কাল আগে - মানে তখন আমি ক্লাস ২ বা ৩তে পড়ি - সেসময়ে আমার বা-হাতের কেড়ে আঙ্গুলে একটা ছোট আঁচিল গজালো! আমি সাহসী লোক - ভাবলাম যে সে এমনিই একদিন সেরে যাবে, বা তা না হলে বড়জোর একটা এক্সট্রা আঙ্গুল গজাবে তার থেকে - তার বেশি আর কি হতে পারে! কিন্তু আমার মায়ের দুশ্চিন্তা বরাবরই স্বাভাবিকের থেকে একটু বেশি! কাজেই খুঁজে পেতে এক হোমিওপ্যাথ ডাক্তারের কাছে যাওয়া হলো|

আমি সাহসী লোক হলেও এলোপ্যাথ ব্যাটাদের সেরকম সহ্য করতে পারতাম না - ইনজেকশন-ফিনজেকশন এড়িয়ে চলতে চাইতাম আর কি! কিন্তু হোমিওপ্যাথ ডাক্তারেরা সেরকম নৃসংশ নয়, তাবাদে তাদের ওষুধপাতিও খেতে বেশ ভালো! কাজেই এক বিকেলে মায়ের হাত ধরে গুটিগুটি ডাক্তারখানায় যেতে সেরকম আপত্তি করলাম না|

এবার হয়েছে কি, আমার মায়ের বাবা - মানে আমার মামা-বাড়ির দাদু, উনি বেশ নামজাদা অঙ্কের মাস্টারমশাই ছিলেন| সারা বসিরহাটে ওনার প্রচুর ছাত্র গিজগিজ করতো একসময়ে| এবং সে সুবাদে আমারও নিজের-মামা ছাড়া এককাঁড়ি এমনি-মামা খুঁজে পাওয়া যেত যেখানে সেখানে|

তো ডাক্তারখানায় গিয়েও সেরকম এক মামার সাথে মোলাকাত হয়ে গেলো| মনে নেই তিনি কম্পাউন্ডার নাকি রোগী নাকি এমনিই বসে ছিলেন সেখানে - আমাকে আর মাকে দেখে তিনি তো দিব্যি গপ্পো জুড়ে দিলেন| আমি ছেলেবেলাতেও ঠিক এখনকার মতই বেশ গোবেচারা ছিলাম - মানে চুপচাপ নিজের মতো থাকতেই পছন্দ করতাম সবসময়ে - ব্যাস|

মার সাথে কুশল বিনিময়ের পরে এবার তিনি আমায় নিয়ে পড়লেন| কোন ইস্কুল, কোন ক্লাস, এসবের পরে তিনি আসল কারণে এলেন| বেশ যত্ন করে আঙ্গুল-মাঙ্গুল দেখে এবার তার ডাক্তারি বিদ্যে জাহির করতে শুরু করলেন| অভিজ্ঞতার অভাব থাকলেও বুঝতে পারছিলাম এই মামা আর যাই হোক আসল ডাক্তার নন - তাহলে আমাদের মতো বেঞ্চিতে বসে থাকতেন না তিনি| কাজেই তার মতামত বা পরামর্শে সেরকম কান-মন না দিয়ে যতটা সম্ভব নির্লিপ্ত থাকবার চেষ্টা করা গেলো|

আমার নতুন মামা ভাগ্নের এই নির্বিরোধী ভাবভঙ্গি দেখে বেশ মজাই পেলেন মনে হয়| স্থান কাল পাত্র ভুলে সেই ভুলটা করে ফেললেন - হাসিহাসি মুখে অপারেশনের সাজেশন দিয়ে ফেললেন| হ্যাঁ - ঐ আঁচিল ছেঁটে ফেলতে গেলে অপারেশনই একমাত্র রাস্তা| এমনিতে বসে থাকতে থাকতে প্রচুর বিরক্তি লাগছিলই তার উপর নয়া মামার কুযুক্তিতে মুনে-প্রাণে বেশ চটিতই হলাম!

মামার দিকে এক নজর হিমশীতল চাউনি ফেলতেও তিনি ব্যাপারটা আঁচ করতে পারলেন না যে ব্যাপারটা কোন দিকে গড়াতে চলছে| তিনি খুব ধীরে সুস্থে বোঝাতে লাগলেন যে অপারেশনে আঁচিলটা বাদ দেওয়া যেতে পারে - শুধু আঁচিল বাদ না দিয়ে আঙ্গুলের গাঁটটা কেটে ফেলতে পারলে আরও ভালো, আরও ভালো যদি পুরো আঙ্গুলটাই বাদ দেওয়া যায়, তালু থেকে হলে তো আর কোনো সংশয়ই থাকে না ... এমন করতে করতে উনি কব্জি, কনুই-টনুই ছাড়িয়ে এবার প্রায় কাঁধে উঠে এলেন|

"হতছাড়া মর্কট! আমার সাথে রসিকতা!"

ক'ফোঁটা ওষুধ জিভে দিয়ে আর গোটা-দুই খুদে শিশি নিয়ে বাড়ি ফেরবার পরে মা প্রথমেই গোটা চারেক বাঁটুল-দি-গ্রেট, হাঁদা-ভোঁদা আর নন্টে-ফন্টে ফরফর করে ছিড়লেন|

নয়া মামাও সমঝে গেছিলেন যে পরবর্তিতে ছোট ছেলেপিলে নাড়বার আগে একটু বুঝে নেওয়া দরকার যে তাদের বুকের মধ্যে নারায়ন দেবনাথ পায়চারি করছেন কিনা|

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অন্যলোকের মেসেজ

 ১ “নমস্কার, মোবিকমে আপনাকে স্বাগত| আমি শুভ্রা – আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি?” “নমস্কার নমস্কার – আমার নাম দেবাংশু লাহিড়ি, আমার নম্বর … মানে এটাই, যেটা থেকে আপনাকে কল করছি|” “হ্যা বলুন …” “দেখুন, আমার সমস্যা হলো – কদিন থেকে আমার মোবাইলে অনবরত মেসেজ ঢুকছে|” “আচ্ছা?” “হ্যা – মানে কোনো মাথামুন্ডু নেই – যতসব হিজিবিজি|” “আচ্ছা? কোনো বিশেষ নম্বর থেকে, নাকি …?” “না, নম্বর বা সেরকম কিছু নয়” “আচ্ছা, বিজ্ঞাপন বা প্রমোশনাল মেসেজ যেরকম? মানে মেসেজে কি থাকছে আমাকে জানাতে পারেন কি? তাহলে …” “না না, কোম্পানির মেসেজ যেমন কোনো লেখা থেকে আসে, নম্বর থেকে নয় – সেরকমও না কিন্তু| মানে পুরোটাই হিজিবিজি ধরনের – এ বি সি ডি এক দুই তিন চার – এরকম …” “আচ্ছা?” “ … ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে, মানে আপনাকে বোঝাতে পারছি না – যখন মেসেজ ঢোকা শুরু হচ্ছে তখন পাগল হয়ে যাওয়ার দশা!” “আচ্ছা? স্যার – আপনি একটু হোল্ড করবেন প্লিজ? তাহলে আমি আমাদের সিস্টেমে চেক করে আপনাকে জানাতে পারতাম আপনার নাম্বারে কোনো ভ্যাস এক্টিভেটেড আছে কিনা?” “সিওর সিওর – আমি ধরছি|” মোবাইলের ওপারে গান বাজনার আওয়াজ শুনতে শুনতে দেবাংশুবাবু ঘর থেকে বেরিয়ে ব্যাল...

দেন্দা

 “খ্র্যা-আ-আ-” ঘাড় ঘুরিয়েই নিচু স্বরে গর্জন করে উঠলো শিম্পাঞ্জিটা! রনদীপ পেশাদার খুনে, কিন্তু এরকম আচমকা প্রতিক্রিয়ার জন্যে তৈরী ছিল না সে| চমকে গেলেও এক মুহুর্তে নিজেকে সামলে নিলো সে| আর তাছাড়া তাদের অনুসরণকারী জীবটি যে মনুষ্যেতর, সেটা জানতে পেরেও তার স্বস্তি হলো অনেকখানি| শিম্পাঞ্জিটা লম্বায় ফুটচারেক, সাধারনের থেকে উচ্চতা সামান্য একটু বেশিই, সেকারণে ঝোপঝাড়ের আড়ালে তাকে মানুষ বলেই প্রায় ভুল করেছিলো সে| তার জন্যেই হাতের কম্যান্ডো নাইফটা এখনো তাক করা আছে তার দিকেই| শিম্পাঞ্জিটার নজর দ্রুত রনদীপের চোখ আর তার হাতের ছুরির দিকে যাতায়াত করতে করতে কি একটা হিসাব করছিলো| “শ্র্সস-ক্রর-র-র” ওয়াকিটকির ইয়ারফোনটা সরব হয়ে উঠলো, “ক্বয়ান টু রান্ডি, ক্বয়ান টু রান্ডি, ডু ইউ কপি? তোমার লোকেশন বলো, ওভার|” রনদীপ খানিক সময় দলছাড়া, তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাকে বলেছে যে কিছু একটা তাদের দলটাকে শেষ আধ ঘন্টা ধরে অনুসরণ করছে, কাজেই ঘুরপথে এসে সে আপাতত সেই অনুসরণকারীর সামনাসামনি| কিন্তু তার অনুপস্থিতি তার দল টের পাওয়ার কারণে টিম লিডার ক্বয়ান জিমের সাথে ওয়াকিটকিতে এর মধ্যে তার বেশ কয়েকবার যোগাযোগ হয়েছে| শিম্পাঞ্জিট...

বন্দী

ঝিঁ-ই-ই-ই আওয়াজ করে কোথাও একটা ঝিঁঝিপোকা একটানা ডেকে যাচ্ছে| প্রথমে আওয়াজটা সেরকম প্রকট না হলেও আস্তে আস্তে সেটার তীব্রতা বিরক্তিকর হয়ে উঠলে রণব্রত চোখ খুললো| চোখ খুলেও সে আলো-আঁধারির পার্থক্য বুঝতে পারলো না| কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে বোঝবার চেষ্টা করলো সে কোথায় আছে| তার মুখের উপর কাপড় জাতীয় কিছু লেপ্টে আছে – যেটার কারণে তার নিঃস্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছে| ঘাড় ঝাঁকি দিয়ে সেটা ফেলে দেবার চেষ্টা করতে গিয়ে ঝিঁঝি পোকাটা আরো জোরে ডেকে উঠলো| রণব্রত বুঝলো যে আসলে ঝিঁঝিপোকাটা আর কোথাও না, তার মাথার ভিতরেই বসে আছে| জ্ঞান ফেরার পরে এবার আস্তে আস্তে তার স্বাভাবিক বোধ ফিরে আসছে| তার হাত পায়ের সাড় ফিরলে সে অনুভব করলো যে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে| এরপরেই তাকে প্রবল আতঙ্ক চেপে ধরলো| চিত্কার করতে গিয়ে বুঝলো যে তার মুখ বাঁধা, তার আর্তনাদ গলার ভিতরেই গুঙিয়ে পাক খেতে লাগলো| বোবা গলায় গোঙাতে গোঙাতে হাত-পায়ে ঝাঁক দিতে দিতে সে বন্ধন মুক্ত হতে চাইলো| আর তার সাথে সাথেই সে আবিষ্কার করলো যে তার মাথার ভিতরের ঝিঁ-ঝিঁ শব্দটা এবার বন্ধ হয়ে গেছে| খানিক নিস্ফল চেষ্টার পরে এবার সে শান্ত হলো| শারীরিক মেহনতের ফলে তার ঝিম ধরা ভা...