সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

এটা কেরে?

নমস্কার - আমি সুমিত রায়|

নিবাস পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা'র বসিরহাট নামক একটি ছোট শহরে| পেশা গ্রাফিক ডিজাইনিং ও ডিজিটাল শিল্পকলা| সখ - শেখাশিখি ও মাঝে মাঝে কিছু লেখালিখি|

কেন এই ব্লগ? সহজ উত্তর : নিজের ঢাক নিজে পেটানো| আমার মতো মফস্বলী নগন্য বাঙালির পক্ষে কাগজে বা ম্যাগাজিনে ঠাই পাওয়া দুস্কর - তাই নিজেই নিজের হাবিজাবি ওয়েব-মাধ্যমে আপনাদের কাছে নিবেদন করছি|

আশা করি পড়ে মজা পাবেন  - আর কমেন্ট দিয়ে বা শেয়ার করে আমাকে উত্সাহিত করবেন|

মন্তব্যসমূহ

  1. আমার ভাষায় বলি- বইটা বের করে মাথার বালিশের পাশেই রাখলাম । উদ্দেশ্য একটাই, যখন খুশী খোলা যাবে।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অন্যলোকের মেসেজ

 ১ “নমস্কার, মোবিকমে আপনাকে স্বাগত| আমি শুভ্রা – আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি?” “নমস্কার নমস্কার – আমার নাম দেবাংশু লাহিড়ি, আমার নম্বর … মানে এটাই, যেটা থেকে আপনাকে কল করছি|” “হ্যা বলুন …” “দেখুন, আমার সমস্যা হলো – কদিন থেকে আমার মোবাইলে অনবরত মেসেজ ঢুকছে|” “আচ্ছা?” “হ্যা – মানে কোনো মাথামুন্ডু নেই – যতসব হিজিবিজি|” “আচ্ছা? কোনো বিশেষ নম্বর থেকে, নাকি …?” “না, নম্বর বা সেরকম কিছু নয়” “আচ্ছা, বিজ্ঞাপন বা প্রমোশনাল মেসেজ যেরকম? মানে মেসেজে কি থাকছে আমাকে জানাতে পারেন কি? তাহলে …” “না না, কোম্পানির মেসেজ যেমন কোনো লেখা থেকে আসে, নম্বর থেকে নয় – সেরকমও না কিন্তু| মানে পুরোটাই হিজিবিজি ধরনের – এ বি সি ডি এক দুই তিন চার – এরকম …” “আচ্ছা?” “ … ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে, মানে আপনাকে বোঝাতে পারছি না – যখন মেসেজ ঢোকা শুরু হচ্ছে তখন পাগল হয়ে যাওয়ার দশা!” “আচ্ছা? স্যার – আপনি একটু হোল্ড করবেন প্লিজ? তাহলে আমি আমাদের সিস্টেমে চেক করে আপনাকে জানাতে পারতাম আপনার নাম্বারে কোনো ভ্যাস এক্টিভেটেড আছে কিনা?” “সিওর সিওর – আমি ধরছি|” মোবাইলের ওপারে গান বাজনার আওয়াজ শুনতে শুনতে দেবাংশুবাবু ঘর থেকে বেরিয়ে ব্যাল...

মেঘ্সফর

"কোথায় যাচ্ছ বাবা?" বিকালের রং আস্তে আস্তে সন্ধ্যায় মলিন হচ্ছে - নাম না জানা কোন গ্রামের মেঠো রাস্তা দিয়ে বাবা'র প্রিয় 'জাওয়া' মোটরবাইক ছুটে চলেছে আর তার সাথে আমার 'একটিভা'র পাল্লা দিতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছি আমি| পাছে বাবা আবার আগের মতো হারিয়ে যায় তাই 'জাওয়া'র সাড়ে তিনশ সিসির ইঞ্জিনের গুরুগম্ভীর গর্জন ছাপিয়ে চিত্কার করে জিজ্ঞাস করলাম আমি| বাবা'র বাইকের গতি কিছুটা কমলো, আমি অনভ্যস্ত প্রতিবর্তে আমার স্কুটারের খুদে চাকাদুটোকে প্রানপন গতিময় করতে চাইলাম - বাবার সাথে সাথে না হোক অন্তত বাবার পিছন-পিছন যেতে চাই আমি| ধুলো'র মেঘ ঝাপসা হয়ে এলে পিছন থেকে বাবাকে দেখতে পেলাম আমি, সেই দীর্ঘ্য বলিষ্ঠ চেহারা, সোজা মেরুদন্ড, দৃপ্ত বসবার ভঙ্গিমা| মায়ের কাছে জেনেছিলাম আমার বাবা খুব দুর্দান্ত মানুষ ছিলেন, চাকরি সুত্রে সারা দক্ষিন ভারত পুরো চষে ফিরেছিলেন, বাংলা-ইংরাজি-হিন্দি ছাড়াও দক্ষিন ভারতের পাঁচ-ছ'টি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারতেন| বাঁধ-বাঁধা'র কাজে এমন কোনো আদিম উপত্যকা ছিল না যেখানে বাবা যাননি| বাইকে দীর্ঘ্য ভ্রমণ পথে চম্বলের ডাকাতের কবলে পড়েছ...

দানোদক

স্টেশন থেকে বেরিয়ে অটো স্ট্যান্ডের দিকে এগোতে এগোতে দেখা গেলো যে একটা অটো সবে ছেড়ে চলে যাচ্ছে আর একটা সেই শুন্যস্থান পূরণ করতে এগিয়ে এলো| স্ট্যান্ডে কেবল একটাই অটো আর দেখা-চোখে যাত্রী বলতে সেই সম্ভবত একা| বিশ্রী বিরক্তি ভর করলো সৌমাভের উপর – পাঁচজন না হলে অটো ছাড়বে না আর তার মানে দাঁড়ালো যে এই সাংঘাতিক গরমে তাকে আর অটোচালককে আরও চারজনের জন্যে অপেক্ষা করতে হবে| তেতোগেলা মুখ করে কাঁধের ব্যাগটাকে একটু হেঁচকিয়ে উপরে তুলে সেই একমাত্র অটোটার দিকে এগুলো সে| “স্কুলমোড়?” অটোওয়ালা মুখে কোনো জবাব না দিয়ে ইশারায় পিছনে বসতে বললো তাকে| সৌমাভ পিঠ থেকে ব্যাগটা খুলে অটো’র পিছনে সাবধানে শুইয়ে রেখে তারপর নিজে ধীরেসুস্থে গুছিয়ে বসলো| বেড়িয়ে ফেরবার এই সময়টা, মানে স্টেশন থেকে বাড়ি ফেরার এই পথটুকু বরাবরই বিরক্তিকর লাগে সৌমাভের| প্রতিবারই মনে হয় যে আর নয়, এই শেষ - কিন্তু গায়ের ব্যথা মরতে না মরতেই আবার নতুন করে উত্সাহ জেগে ওঠে| সে জানে এটা কেবল তার একার নয়, যে গ্রুপটার সাথে সে বেরোয়, তাদের পাঁচজনেরই এই একই মনোভাব| তাদের বেড়ানোর নেশা এমনই যে ছমাস যদি কোথাও না বেরুনো যায় তবে তাদের সবারই দমবন্ধ হয়ে আসে| এবার...