সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জাতিস্বর

জাতিস্বর দেখলাম - আশ্চর্যের বিষয় যে স্কিপ করে করে না দেখে একটানা প্রথম থেকে শেষ অব্দি দেখলাম|

কাস্ট-এন্ড-ক্রু কারা জানতাম না, তবে শুনেছিলাম যে এতে 'পোয়েনজিত' আছে! প্রথমেই 'স্বস্তিকা' ও 'রিয়া সেন'কে দেখে একটু সন্দেহে ছিলাম, ভরসা পেয়েছিলাম 'রাহুল'কে দেখে - একটু আধটু হলেও ওনাকে স্বাভাবিক লাগে| তবে তারপরেই 'যিশু'কে দেখে ব্যাপক বিরক্ত হয়েছিলাম| যা অভিজ্ঞতা তাতে এনাদেরকে এন্করিং ছাড়া আর অন্য কোথাও মানায় বলে মনে হয় না!

কিন্তু সিনেমা চালু হওয়ার দুয়েক মিনিটের ভিতরেই মনে হতে লাগলো এটা দেখাই যেতে পারে| দুটো আলাদা সময়কে এমন চমতকার ভাবে একটি চমকপ্রদ গল্পের মাধ্যমে একসাথে মেশানো হয়েছে দেখতে দেখতে শিহরিত হয়ে উঠতে বাধ্য হচ্ছিলাম| সৃজিত মুখার্জি নির্দেশক এবং অভিনেতা হিসাবে প্রতিভাশালী - কিন্তু আমার ধারণা উনি জাতিস্বর ওনার সেরা ছবি| এরকম বিস্ময়জাগানো গল্প এবং তার এতো সুন্দর উপস্থাপনা - উনি ছাড়া কি সম্ভব হত?

সব থেকে বড় কথা - দেখতে দেখতে স্বস্তিকা, যিশু, আবির - এরা কোথায় হারিয়ে গেলো কে জানে! মহামায়া, রোহিত, বোধি - চোখের সামনে এদের জীবন্ত হয়ে উঠতে দেখলাম| 'পোয়েনজিত'? ভাবতে অবাক লাগে যে এরকম অভিনয় প্রতিভা কি করে এতদিন 'বেফালতু' নায়কের চরিত্রের আড়ালে চাপা পড়ে ছিল!! কি বলবো - 'কুশল হাজরা' - নাকি 'হেঞ্জম্যান আন্তোনি?' কে কাকে ছাপিয়ে গেছে সে প্রশ্ন করার প্রয়োজন নেই - কারণ দুজনেই সেরা| এছাড়াও কবিগানের আসরে যাদের যাদের উপস্তিতি আছে, তাদের ওখানে না থাকলে চলতই না কোনোভাবে| 'খরাজ মুখার্জি'র অভাব অনুভব করছিলাম একসময়ে, সেটাও মিটল 'ভোলা ময়রা'র উপস্থিতিতে|

আর একটা জিনিষ বলতে চাই - গান! গান তো অবশ্যই এই সিনেমার একটা বড় চ্যালেঞ্জ| ফোক থেকে রক - সব মিলিয়ে এমন চমতকার ফিউশন বাংলা সিনেমায় এর আগে দেখেছি কি আগে? মনে তো পড়ে না|

সবাইকে একসাথে ধন্যবাদ দিতে চাই এরকম দুর্দান্ত একটি সিনেমা উপহার দেওয়ার জন্যে|

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সি৯এইচ১৩এন ও৩

- এভরিথিং ইস ওকে, বাট আই আফ্রেড দেয়ার ইজ সামথিং মিসিং| - মিসিং হোয়াট? ক্যান ইউ এক্সপ্লেন? - ওয়েল, আই থিংক দা কভার ল্যাকস দা প্যাশন ইট ডিমান্ডেড – ইউ নো হোয়াট আই মিন| - হুমম| আই আন্ডারস্ট্যান্ড| - সো উইল ইউ প্লিজ রিভিউ দিস ওয়ান্স? - ওকে, লেট মে ট্রাই| - থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ – এন্ড সো সরি ফর বিয়িং সো চুজি| - নো প্রবলেম এট অল| - থ্যাঙ্কস| বাই| - বাই – টক টু ইউ সুন :)

যুদ্দুউউউ

জনগণ, অন্যভাবে নেবেন না, অনেক দিন আগের একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই| তখন আমি বেসব্রিজে চাকরি করি, দমদমে ভাড়ায় থাকি - একদিন শেয়ালদা হয়ে ফেরবার পথে মহা শোরগোল! সাবওয়েতে আগুন!! মুভিখোর সাধারণ বাঙালির মতোই আমারও হিরোয়িক অবসেশন ছেলেবেলা থেকেই - ব্যাংকে গেলে ভাবি ডাকাত পড়লে বেশ হয় - সবাইকে বাঁচিয়ে বুকে গুলি খেয়ে হাসতে হাসতে মরবো - সবাই হাত তালি দেবে| ট্রেনে উঠলে ভাবি এক্সিডেন্ট হলে বেশ হয় - সবাইকে বাঁচিয়ে বুকে রড ঢুকে হাসতে হাসতে মরবো - সবাই হাত তালি দেবে| এমনকি স্কুলে ঢুকলেও ভাবি একটা ভূমিকম্প হলে বেশ হয় - সবাইকে বাঁচিয়ে মাথায় চাংগরের বাড়ি খেয়ে হাসতে হাসতে মরবো - সবাই হাত তালি দেবে| এবং পরদিন খবরের কাগজে নাম উঠবে - ব্যাস মানব জনম সার্থক| কিন্তু এমনই কপাল যে পুকুরের পাশ দিয়ে গেলেও একটা ছোটখাট ছেলে পিলে ডুবতে দেখি না যে তাকে সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপ দিয়ে বাঁচাবো - কি দুক্কু! আবার ওদিকে যেসব জিনিস সামনেই দেখি সেসব করতেও ইতস্তত করি! আমার এক বন্ধুর অনুরোধে একটি মেয়েকে একটি রাতের জন্যে আমাদের বাড়ি আশ্রয় দিতে পারি নি, মাঝরাতে বাইরে তার করুন আবেদন বালিশে আড়াল করার চেষ্টা করেছি - জানি না সে কি ছিল...

বন্দী

ঝিঁ-ই-ই-ই আওয়াজ করে কোথাও একটা ঝিঁঝিপোকা একটানা ডেকে যাচ্ছে| প্রথমে আওয়াজটা সেরকম প্রকট না হলেও আস্তে আস্তে সেটার তীব্রতা বিরক্তিকর হয়ে উঠলে রণব্রত চোখ খুললো| চোখ খুলেও সে আলো-আঁধারির পার্থক্য বুঝতে পারলো না| কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে বোঝবার চেষ্টা করলো সে কোথায় আছে| তার মুখের উপর কাপড় জাতীয় কিছু লেপ্টে আছে – যেটার কারণে তার নিঃস্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছে| ঘাড় ঝাঁকি দিয়ে সেটা ফেলে দেবার চেষ্টা করতে গিয়ে ঝিঁঝি পোকাটা আরো জোরে ডেকে উঠলো| রণব্রত বুঝলো যে আসলে ঝিঁঝিপোকাটা আর কোথাও না, তার মাথার ভিতরেই বসে আছে| জ্ঞান ফেরার পরে এবার আস্তে আস্তে তার স্বাভাবিক বোধ ফিরে আসছে| তার হাত পায়ের সাড় ফিরলে সে অনুভব করলো যে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে| এরপরেই তাকে প্রবল আতঙ্ক চেপে ধরলো| চিত্কার করতে গিয়ে বুঝলো যে তার মুখ বাঁধা, তার আর্তনাদ গলার ভিতরেই গুঙিয়ে পাক খেতে লাগলো| বোবা গলায় গোঙাতে গোঙাতে হাত-পায়ে ঝাঁক দিতে দিতে সে বন্ধন মুক্ত হতে চাইলো| আর তার সাথে সাথেই সে আবিষ্কার করলো যে তার মাথার ভিতরের ঝিঁ-ঝিঁ শব্দটা এবার বন্ধ হয়ে গেছে| খানিক নিস্ফল চেষ্টার পরে এবার সে শান্ত হলো| শারীরিক মেহনতের ফলে তার ঝিম ধরা ভা...