সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ভ্যালু দিবসের ভ্যালু

একটি অতি অবান্তর পোস্ট, জনগণ - মাথা সামলে

উহু - বন্ধু ইন্দ্রনীল ঘোষাল-এর পোস্টের আগেও এ ছবি আমি দেখেছি হয়তো, মনে নেই সেভাবে| কথায় আছে ঘরে অভাব ঢুকলে ভালোবাসা খিড়কি দিয়ে পালানোর পথ খোঁজে| না - শ্রেণী, সামাজিক অবস্থা এসব নিয়ে বিশ্লেষণ করা বা মতামত দেওয়ার আমার বুদ্ধি বা যুক্তি কিছুই নেই|

কিন্তু কিছু স্মৃতি আছে যা বারবার উল্টে পাল্টে দেখতে খুব ভালো লাগে|

জনগণ : ব্যক্তি 'আমি'র কথা বলে বিরক্ত করতে চাই না আপনাদের - সেই দিক থেকে হিসাব করলে আমি আমার স্ত্রীর দাক্ষিণ্য ছাড়া পুরোটাই বঞ্চিত| ইয়ে ছোট জনগণ যারা আছে - তাদের উদ্দেশ্যে - গুরুজনের প্রেম কাহিনীতে আড়ি পাতবার কথা চিন্তা করলে লাগাও কালটি - ওসব নেই - হ্যাঁ?

তাহলে?

আমাদের ছেলেবেলায় হ্যানত্যান যেমন অনেক কিছুই ছিল না - সেরকম 'ভ্যালু' দিবস-টিবস'ও হতো না মনে হয় সেরম - পরে যদিও গ্রিটিংস-কার্ডের বাজার বানাতে সেসব বেশ গোছানো হয়েছিল!

তাহলেও বসিরহাট বোটঘাটের পাশের 'রবীন্দ্র সৈকত' - যা আমাদের কৈশোরে বড় পার্ক নামে পরিচিত ছিল সেখানে যেমন একটা কাপল দেখেছিলাম - চোখে ভাসে এখনো - ছেলেটির সাদা শার্ট, কালো ট্রাউজার - মেয়েটির ধপধপে সাদা সালোয়ার কামিজ| জানি না ওরা পৃথিবীরই মানুষ, নাকি অন্য কোথাও থেকে এসেছিলো| মেয়েটি বেঞ্চে বসে - ছেলেটি একটু দুরত্বে দাঁড়িয়ে, কেবল কথা বলছিলো - ব্যাস| প্রেম-ফ্রেম - কি জানি, কিন্তু ওদের দেখে মনে হয়েছিল হ্যা - যদি আমিও কখনো এরকম ভাবে একটু দাঁড়াতে পারি তো তার পর মুহুর্তে মরে গেলেও আফসোস থাকবে না আমার|

ইয়ে - এর পরে আমিও - আহেম - থাক - সেরকম কিচু নয় - কিন্তু মানুষ তো - যাকগে - তবে সে হতে পারে নি কিছুই|

প্রচুর মানুষ দেখেছি জোড়ায়-জোড়ায় - যেতে আসতে - নানা জায়গায় নানা পরিস্থিতিতে - কিন্তু সেরকম স্বর্গীয় কিচ্ছু সেভাবে আর দেখিনি|

সেরকম আবার দেখেছি আরেকবার - তখন আমি কালনায় চাকরি করি, একবার ট্রেনে যাওয়ার সময় আবার তাদের দেখলাম - না তারা নয়, তাদের মতোই আরেকটা কাপল| ছেলেটি আর তার বউ দুজনেই চকচকে কালো - ভারতভূমি'র আদি সন্তান| তাদের টিকেট ছিল কি ছিল না জানি না, তবে দরজার পাশে মেঝেতে ছেলেটির গায়ে হেলান দিয়ে তার বউ বসেছিলো - ছেলেটির পরনে রংজ্বলা হলুদ শার্ট আর হালকা ছাই রঙা প্যান্ট, তার বৌয়ের পরনে বাসন্তী রঙা শাড়ি - নতুন| জানি না তারাও তাদের আগের ছবির মতোই পৃথিবী থেকে এসেছিলো নাকি অন্য কোথাও| কিন্তু মনে হয়েছিল হ্যাঁ - যদি আমিও কারু গাছ হতে পারতাম তবে তার পর মুহুর্তে ফসিল হয়ে গেলেও পুরো শান্তি|

তো তারপর ... যাকগে - বাচ্চে লোগ যারা এখনো কালটি লাগাও নি - নিরাশ না হতে চাইলে - কিন্তু তাও কিছু হয় নি|

হ্যাঁ - মানুষ যা চায় তাই পায় - পেতেই হয়|

কলেজ থেকে বেকারী হয়ে কর্ম জীবন - করিডোরের ওপার, দোতলার জানালা থেকে ট্রেনের তিনটে সিট পরে - চেয়ে থেকেছি কিছু কিছু| কিন্তু অস্তিত্ব সংকটে তার থেকে বেরুনোর দুসাহস করিনি কখনো| আমাকে কেউ দেখে নি - কিম্বা দেখতেও পারে, আমিই সে দেখা দেখতে পাই নি - জনগণ হাসবেন না প্লীজ - আমি এরকমই|

তাও কিপ্টে আমির কাঠ বেকার গিন্নি যখন বলে দরকারে ওর গয়না বেচে আমার নতুন চশমা করে দেবে - মনে হয় ভালোবাসা অবিনশ্বর - কেবল আধার পাল্টায় - তাই কি না? কি জানি|

হ্যাঁ - এরেঞ্জড ম্যারেজে বিয়ের আগে একদিন শশুর-শাশুড়ির অনুমতি নিয়ে নতুন রবীন্দ্র সৈকতে গেছি আমরা - বিয়ের পরে ট্রেনেও চড়েছি| বিগ-ব্যাঙের পরবর্তিতে মহাকালের ল-অ-ম্বা দাগের উপর আমাদের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র টাইম লাইনে ঈশ্বরের পায়ের আঙ্গুলের লোমের উপর বসে থাকা জীবানু'র মাথার চুলের খুশকির পরমানুর মতো আমাদের অবস্থান| এই তুচ্চতর জীবের জন্যে মহাবিশ্ব কত কি বন্দোবস্ত করে দিয়েছে ভাবলে বিস্মিত হয়|

কিন্তু লোভির মতো আমি শুধু চেয়ে থেকেছি - চেয়েই গিয়েছি - দিতে কি পেরেছি কিছু? দিতে চেয়েইছি বা কি? গিন্নি কি বলে কে জানে!

তবে হ্যাঁ - বন্ধুর পোস্টে যে মন্তব্য ছেড়ে এসেছিলাম - আমার উপলব্ধি : মানুষটির চোখের মুগ্ধতা বা মহিলার চোখের প্রশান্তি কি কোনো উপহারেই কেনা সম্ভব? হয়তো নয়|

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অন্যলোকের মেসেজ

 ১ “নমস্কার, মোবিকমে আপনাকে স্বাগত| আমি শুভ্রা – আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি?” “নমস্কার নমস্কার – আমার নাম দেবাংশু লাহিড়ি, আমার নম্বর … মানে এটাই, যেটা থেকে আপনাকে কল করছি|” “হ্যা বলুন …” “দেখুন, আমার সমস্যা হলো – কদিন থেকে আমার মোবাইলে অনবরত মেসেজ ঢুকছে|” “আচ্ছা?” “হ্যা – মানে কোনো মাথামুন্ডু নেই – যতসব হিজিবিজি|” “আচ্ছা? কোনো বিশেষ নম্বর থেকে, নাকি …?” “না, নম্বর বা সেরকম কিছু নয়” “আচ্ছা, বিজ্ঞাপন বা প্রমোশনাল মেসেজ যেরকম? মানে মেসেজে কি থাকছে আমাকে জানাতে পারেন কি? তাহলে …” “না না, কোম্পানির মেসেজ যেমন কোনো লেখা থেকে আসে, নম্বর থেকে নয় – সেরকমও না কিন্তু| মানে পুরোটাই হিজিবিজি ধরনের – এ বি সি ডি এক দুই তিন চার – এরকম …” “আচ্ছা?” “ … ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে, মানে আপনাকে বোঝাতে পারছি না – যখন মেসেজ ঢোকা শুরু হচ্ছে তখন পাগল হয়ে যাওয়ার দশা!” “আচ্ছা? স্যার – আপনি একটু হোল্ড করবেন প্লিজ? তাহলে আমি আমাদের সিস্টেমে চেক করে আপনাকে জানাতে পারতাম আপনার নাম্বারে কোনো ভ্যাস এক্টিভেটেড আছে কিনা?” “সিওর সিওর – আমি ধরছি|” মোবাইলের ওপারে গান বাজনার আওয়াজ শুনতে শুনতে দেবাংশুবাবু ঘর থেকে বেরিয়ে ব্যাল...

দেন্দা

 “খ্র্যা-আ-আ-” ঘাড় ঘুরিয়েই নিচু স্বরে গর্জন করে উঠলো শিম্পাঞ্জিটা! রনদীপ পেশাদার খুনে, কিন্তু এরকম আচমকা প্রতিক্রিয়ার জন্যে তৈরী ছিল না সে| চমকে গেলেও এক মুহুর্তে নিজেকে সামলে নিলো সে| আর তাছাড়া তাদের অনুসরণকারী জীবটি যে মনুষ্যেতর, সেটা জানতে পেরেও তার স্বস্তি হলো অনেকখানি| শিম্পাঞ্জিটা লম্বায় ফুটচারেক, সাধারনের থেকে উচ্চতা সামান্য একটু বেশিই, সেকারণে ঝোপঝাড়ের আড়ালে তাকে মানুষ বলেই প্রায় ভুল করেছিলো সে| তার জন্যেই হাতের কম্যান্ডো নাইফটা এখনো তাক করা আছে তার দিকেই| শিম্পাঞ্জিটার নজর দ্রুত রনদীপের চোখ আর তার হাতের ছুরির দিকে যাতায়াত করতে করতে কি একটা হিসাব করছিলো| “শ্র্সস-ক্রর-র-র” ওয়াকিটকির ইয়ারফোনটা সরব হয়ে উঠলো, “ক্বয়ান টু রান্ডি, ক্বয়ান টু রান্ডি, ডু ইউ কপি? তোমার লোকেশন বলো, ওভার|” রনদীপ খানিক সময় দলছাড়া, তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাকে বলেছে যে কিছু একটা তাদের দলটাকে শেষ আধ ঘন্টা ধরে অনুসরণ করছে, কাজেই ঘুরপথে এসে সে আপাতত সেই অনুসরণকারীর সামনাসামনি| কিন্তু তার অনুপস্থিতি তার দল টের পাওয়ার কারণে টিম লিডার ক্বয়ান জিমের সাথে ওয়াকিটকিতে এর মধ্যে তার বেশ কয়েকবার যোগাযোগ হয়েছে| শিম্পাঞ্জিট...

বন্দী

ঝিঁ-ই-ই-ই আওয়াজ করে কোথাও একটা ঝিঁঝিপোকা একটানা ডেকে যাচ্ছে| প্রথমে আওয়াজটা সেরকম প্রকট না হলেও আস্তে আস্তে সেটার তীব্রতা বিরক্তিকর হয়ে উঠলে রণব্রত চোখ খুললো| চোখ খুলেও সে আলো-আঁধারির পার্থক্য বুঝতে পারলো না| কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে বোঝবার চেষ্টা করলো সে কোথায় আছে| তার মুখের উপর কাপড় জাতীয় কিছু লেপ্টে আছে – যেটার কারণে তার নিঃস্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছে| ঘাড় ঝাঁকি দিয়ে সেটা ফেলে দেবার চেষ্টা করতে গিয়ে ঝিঁঝি পোকাটা আরো জোরে ডেকে উঠলো| রণব্রত বুঝলো যে আসলে ঝিঁঝিপোকাটা আর কোথাও না, তার মাথার ভিতরেই বসে আছে| জ্ঞান ফেরার পরে এবার আস্তে আস্তে তার স্বাভাবিক বোধ ফিরে আসছে| তার হাত পায়ের সাড় ফিরলে সে অনুভব করলো যে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে| এরপরেই তাকে প্রবল আতঙ্ক চেপে ধরলো| চিত্কার করতে গিয়ে বুঝলো যে তার মুখ বাঁধা, তার আর্তনাদ গলার ভিতরেই গুঙিয়ে পাক খেতে লাগলো| বোবা গলায় গোঙাতে গোঙাতে হাত-পায়ে ঝাঁক দিতে দিতে সে বন্ধন মুক্ত হতে চাইলো| আর তার সাথে সাথেই সে আবিষ্কার করলো যে তার মাথার ভিতরের ঝিঁ-ঝিঁ শব্দটা এবার বন্ধ হয়ে গেছে| খানিক নিস্ফল চেষ্টার পরে এবার সে শান্ত হলো| শারীরিক মেহনতের ফলে তার ঝিম ধরা ভা...