সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সেরা বাঙালি

সেরা দশজন বাঙালি'র ফর্দ বানাবার ট্রেন্ড চলছে নাকি আজকাল? বেশ বেশ - আমিও লিখি তাহলে? দশখানা হবে না - খান পাঁচেক লেখবার চেষ্টা করলাম, দেখবেন পড়ে কিরম হয় লিস্টিটা|

১) আমার বাবা : ভদ্রলোক দারুন ছিলেন - জনগণ ওনাকে চিনবেন না - স্বাভাবিক| মাত্র চব্বিশ বছর ওনাকে চেনবার সুযোগ হয়েছিল আমার - সেই মতো, আমার দেখা সেরা বাঙালি| রীতিমতো শুন্য থেকে শুরু করে ওনার পরিবারের জন্যে ওনার অবদান - চলতে ফিরতে স্মরণ করতে হয় ওনাকে| আমার মাকে যতটা সম্ভব সুখে রেখেছিলেন, আমাকে যতটা সম্ভব মানুষ করার চেষ্টা করেছিলেন, ওনার বানানো বাড়িই আমাদের মাথার উপর ছাদ এখনো|

২) আমার মা : হ্যা - ওনাকেও চেনবার কথা নয় জনগনের - নিতান্ত সাধারণ গৃহবধু| না - নিজে না খেয়ে আমার মুখে অন্ন তুলে দেননি কখনো - কেননা আমার বাবা যেহেতু কর্মঠ মানুষ ছিলেন, সেকারণে সে পরিস্থিতি ঘটবার সুযোগ ছিলই না| কিন্তু পরিবারে সবদিকে খেয়াল রাখা - সব কিছু যাতে সুষ্টু ভাবে চলে সেই ম্যানেজমেন্ট - মা'র থেকে অনেক কিছুই শেখবার আছে আমার|

৩) আমার গিন্নি : এটিকেও কারু সেরকম চেনবার কথা নয় - কাঠ বেকার| ঘ্য়ানানো দুরের কথা আমার কোনো ব্যাপারে মাথা ঘামানো দুরে থাক - নাকও গলায় না - কাজেই আমি পুরোপুরী আমার বেকার জীবন উপভোগ করতে পারি| এবাদে যেহেতু আমি মোটামুটি ছন্ন ছাড়া লোক, কাজেই মায়ের সাথে সাথে এটিও আমার পাক্কা গার্জেন - ব্যাস|

৪) Samim Huda : আমার বেস্টফ্রেন্ড - এনাকে চেনেন নাকি? ন্যাহ| এও সেরকম নাম করা মাতব্বর টাইপ কেউ নয় - নেহাত একজন সায়েন্সের মাস্টার - ওর ছাত্ররা ছাড়া আর কারুর একে চেনবার কথা নয়| কিন্তু ... একটা লম্বা কিন্তু আছে এখানে| আমি যেদিন ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হয়েছিলাম তার কদিন পর থেকেই এ ব্যাটার সাথে আমার বন্ধুত্ব| সুত্র : বাঁটুল দি গ্রেট| আজীবন কমিক্স লাভার - সারা দুনিয়ার কমিক্সের ইতিহাস ভূগোল মুখস্ত করে বসে আছেন ইনি| তাতে আমার কি? আমার হলো এই যে - এই দীর্ঘ্য ৩৫-৩৬বছরের বন্ধুত্বের ইতিহাসে এ ব্যাটা সব সময়ে আমার মনের পিছনে বলে 'ভাই কিছু কর' - এই বন্ধুত্বটা না থাকলে জানি না আমার পড়ার ইচ্ছা, আঁকার ইচ্ছা - এসবগুলো কতদিন টিঁকে থাকতো|

এবং ৫) আমি নিজে 😎 - ওহ-ইয়ে! গর্ব বা অহংকার নয় - সত্যি বলছি| কারণ? ভালো সন্তান, ভালো ছাত্র, ভালো প্রেমিক (হাসবেন না মাইরি - সত্যি দুবার ... যাকগে), ভালো কর্মচারী, ভালো স্বামী বা সব থেকে বড় কথা - ভালো মানুষ - আমি কোনটাই নই| হয়তো চেষ্টা করেছি ওগুলো হবার - কিন্তু হতাশ হয়ে আবিষ্কার করেছি যে সেসব ভালো ভালো জিনিস হওয়ার যোগ্যতাই নেই আমার| তাহলেও বলতে গেলে শুন্য নয়, রীতিমতো পিছন থেকে শুরু করা পাবলিক আমি - সব কিছুই অনেক দেরিতে শুরু হওয়া পাবলিক আমি| সে জায়গায় দাঁড়িয়ে কিভাবে যে এখনো টিঁকেই আছি এবং চলেই চলেছি - ভাবলে নিজেই অবাক হয়ে যাই|

এই হলো ব্যাপার|

জনগণ, হ্যা মানছি এই পাঁচজন বাঙালি - এই-ঐ-তাই মহাপুরুষদের পাশে এই পাঁচজনের লিস্টি রাজাভোজ আর গঙ্গুতেলি'র উপমা মনে পড়ে যাবে আপনাদের - কিন্তু বিশ্বাস করুন আমি বেশি সত্সঙ্গ করতে পারি নি - সেটা আমারই সীমাবদ্ধতা| নিজের জীবনকেই সিরিয়াসলি দেখে উঠতে পারি নি - তাই লোকজনের জীবনীও সেরকম পড়তে চাই নি কখনই| সেই মতো আমার সীমিত বৃত্তের এই কজন মানুষই 'আমার কাছে' সেরা|

নিন একে একে হ্যাহ্যা মেরে দিন এইবার|

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আমার পড়া প্রথম ইন্দ্রজাল কমিকস

আমি অনেক ছোটবেলায় লিখতে পড়তে শিখি - যখন আমার চার-পাঁচ বছর বয়স সে সময়ে আমি নিজের চেষ্টা আর ইচ্ছেতেই একাএকাই আমার পরিচিত শিশুপাঠ্য বইপত্তর পড়তে পারতাম এবং সবথেকে বড় কথা হলো ব্যাট-বলের বদলে সেই বই গুলিই আমার কাছে অনেক প্রিয় ছিল| বাবা'র বদলি'র চাকরি ছিল, কাজেই ছ'বছর বয়সে যখন আমি ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হই, থিতু হওয়ার প্রয়োজনে আমি আর আমার মা তখন আমাদের এই শহরেই পাকাপাকি ভাবে বাস করতে শুরু করি| বাবা থাকতেন দুরে - বিহারের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাঁধ-বাঁধা'র দায়িত্বে| বাড়ি ফিরতেন পনেরো দিনে বা মাসে একবার করে| অন্যান্য শিশুদের মতন আমার বাবা ফেরার সময়ে কোনো উপহারের চাহিদা থাকতো না - বাবা নিজে যে সশরীরে আমাদের কাছে আসছেন - সেটারই গুরুত্ব ছিল সবথেকে বেশি|

উত্তরাধিকার ওয়েব সাহিত্য পুরস্কার

একটু নয়, প্রচুর দেরি করেই – ইয়ে কি বলে আবার একটু ঢাক পেটাপিটি করি| তবে সেদিক থেকে ধরতে গেলে ভবিষ্যতে আমার ডিজে হওয়ার রাস্তাও খুলছে হয়তো পরোক্ষ ভাবে| আসল সাফাই হলো ‘আমার মতো’ যারা কাজ করেন, তারা হয়তো উপলব্ধি করেছেন যে এপ্রিল মে থেকে কাজের স্বাভাবিক চাপ শুরু হয় আর তা বাদে যেহেতু ব্যক্তিগত ভাবে আমার পুরস্কার-টুরস্কার পাওয়ার সেরকম অভ্যাস নেই, সেই দিক থেকে - তবে ঘটনা, একবছরে পরপর দুবার পুরস্কার প্রাপ্তি আর তার সাথে ইদানীন গপ্পো লেখারও ঝোঁক বেড়েছে খানিক, কাজেই সবে মিলে ... যাকগে! জ্ঞানীগুনী যারাই আছেন তাদের কাছে ব্যাখ্যা করার দরকার না হলেও, সাধারণ মানুষ হয়তো কৌতুহলী হবেন যে এই উত্তরাধিকার ওয়েব সাহিত্যের ব্যাপারটা কি! দেখুন, মানুষ একটি অদ্ভুত জন্তু – সেভাবে বলতে গেলে এদের রাম-টু-রম রেশিও অন্যান্য জন্তুর তুলনায় অনেক বেশি মানে একোয়ারড মেমরির থেকে প্রিন্টেড মেমরি অনেক কম| জীবন বিজ্ঞান সম্পর্কে ধারণা খুবই কম, তাও আমার সেকেন্ডারি ব্রেন, মানে ইন্টারনেট থেকে যা জানা, মানব মস্তিষ্কের ডানদিক আমাদের সাথে বেজায় মজার মজার খেলা খেলে! কল্পনা, সৃজনশীলতা – এগুলি অন্য জন্তুদের ভিতর সেভাবে প্রকট কি? হয়ত...

জাতিস্বর

জাতিস্বর দেখলাম - আশ্চর্যের বিষয় যে স্কিপ করে করে না দেখে একটানা প্রথম থেকে শেষ অব্দি দেখলাম|