সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

যুদ্দুউউউ

জনগণ, অন্যভাবে নেবেন না, অনেক দিন আগের একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই|

তখন আমি বেসব্রিজে চাকরি করি, দমদমে ভাড়ায় থাকি - একদিন শেয়ালদা হয়ে ফেরবার পথে মহা শোরগোল! সাবওয়েতে আগুন!!

মুভিখোর সাধারণ বাঙালির মতোই আমারও হিরোয়িক অবসেশন ছেলেবেলা থেকেই - ব্যাংকে গেলে ভাবি ডাকাত পড়লে বেশ হয় - সবাইকে বাঁচিয়ে বুকে গুলি খেয়ে হাসতে হাসতে মরবো - সবাই হাত তালি দেবে| ট্রেনে উঠলে ভাবি এক্সিডেন্ট হলে বেশ হয় - সবাইকে বাঁচিয়ে বুকে রড ঢুকে হাসতে হাসতে মরবো - সবাই হাত তালি দেবে| এমনকি স্কুলে ঢুকলেও ভাবি একটা ভূমিকম্প হলে বেশ হয় - সবাইকে বাঁচিয়ে মাথায় চাংগরের বাড়ি খেয়ে হাসতে হাসতে মরবো - সবাই হাত তালি দেবে| এবং পরদিন খবরের কাগজে নাম উঠবে - ব্যাস মানব জনম সার্থক|

কিন্তু এমনই কপাল যে পুকুরের পাশ দিয়ে গেলেও একটা ছোটখাট ছেলে পিলে ডুবতে দেখি না যে তাকে সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপ দিয়ে বাঁচাবো - কি দুক্কু!

আবার ওদিকে যেসব জিনিস সামনেই দেখি সেসব করতেও ইতস্তত করি!

আমার এক বন্ধুর অনুরোধে একটি মেয়েকে একটি রাতের জন্যে আমাদের বাড়ি আশ্রয় দিতে পারি নি, মাঝরাতে বাইরে তার করুন আবেদন বালিশে আড়াল করার চেষ্টা করেছি - জানি না সে কি ছিল কেবল সেই সন্দেহে|

যাদবপুর যাবার বাসের জানালা দিয়ে বাইরের রাস্তায় অসহায় পাগলি দেখেছি - সম্পূর্ণ উলঙ্গ| না ঘরে ফেরার তাড়া ছিল না, কিন্তু পরের স্টপে নেমে তাকে আমার গায়ের জামাটা দিতে চেয়েও পারি নি - খালি গায়ে ঘরে ফিরতে দেখলে আমার প্রতিবেশীরা আমায় কি ভাবতে পারে সেই আশঙ্কায়|

এমনকি ট্রেনে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর থেকেও এক প্যাকেটের বদলে দু প্যাকেট চকলেট কেনবারও ভরসা পেতে পারি না সবসময়ে - কি জানি, তার প্রতিবন্ধকতার সুযোগ নিয়ে তার মহাজন তাকে ঠিক জিনিসই দেয় কিনা সেই চিন্তায়|

তো এই পাতি ছ্যাঁচড়া বাঙালির কপাল খুলে গেলো যখন সাবওয়ে থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বেরুতে দেখলাম|

"এদিক নয় - উপর দিয়ে যান - উপর দিয়ে যান!"
"আমি কোনো সাহায্য করতে পারি?"
ফায়ার ব্রিগেডের কর্মীটি আমাকে এক ঝলক দেখলেন, "আপনার ফায়ার ট্রেনিং আছে?"

ডাকাতের বুলেট, ট্রেনের রড, কংক্রিটের চাংড় - মনে মনে সব বাউন্স করা প্র্যাকটিস করেছি যাতে ঠিক সময়ে কাজে লাগাতে পারি - কিন্তু আমার সরকার, আমার রাজ্য, আমার দেশ আমায় সমাজসেবার তাত্ত্বিক শিক্ষা দিলেও আপত্কালীন পরিস্থিতির কোনো ব্যবহারিক শিক্ষা দিতে চেয়েছিলো কি না জানি না - আমি সে নিয়ে কোনদিন আগ্রহীই হই নি|

"না!" বিমর্ষ হয়ে বললাম|
"তাহলে ঝামেলা বাড়াবেন না - আমাদের কাজ আমাদের করতে দিন|"

সাবওয়ে থেকে বেরিয়ে উপর দিয়ে হেঁটে হেঁটে স্টেশনে যাওয়ার সময় মাথা ঠান্ডা হলো কিছুটা| সত্যিই - একটা সময় বা সীমা পর্যন্ত যাদের প্রকৃত প্রশিক্ষণ আছে বিপর্যয় মোকাবিলায় তাদের প্রতি ভরসা রাখা আর আবেগের বশে আগ বাড়িয়ে তাদের কাজ জড়িয়ে বাড়িয়ে না দেওয়াটাই ঠিক কাজ|

পরদিন খবরের কাগজে আমার কালি মাখা হাসিমুখের ছবি ছাপা হলো না - সে দুঃখ তো থাকলোই, কিন্তু রাষ্ট্রনেতা থেকে সেনাকর্মী তারা তাদের কাজ ঠিক ঠাক করুন - ব্যাস সে ভরসা আমার তৈরী|

এক বন্ধুর পোস্টের মন্তব্য অনুযায়ী - যুদ্ধ আমি চাইবো না - বিশেষত দুটি পরমানু ক্ষমতাশীল দেশের ভিতর| তাতে দুটি দেশ নয় - বরং গোটা বিশ্বই ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে - এবং এই কথা মিলিয়ে দেখবার জন্যে আমি আপনি বা ফেসবুক - কিসুই থাকবে না সেসময়ে|

আবার আমি যুদ্ধ চাইবো - যদি সেটা দুনিয়া থেকে দুনিয়ার সব থেকে ক্ষতিকর প্রজাতিটিকে হঠানোর জন্যে বন্দোবস্ত করা চায় - হ্যা মানুষের কথাই বলছি আমি|

কিন্তু জনগণ - যুদ্ধ যদি চান আপনি - মনে রাখবেন সেটা মুভি নয়, গেম নয় - তার থেকেও বিশাল-ভংকর-মারাত্মক-সর্বগ্রাসী জিনিস একটা| এবং সেটা আনডু বা রিডু দুরে ঠাক - রিওয়াইনডও করা যায় না - হ্যাঁ! তবে যদি আপনার ফিজিক্যাল এবিলিটি থাকে, কমব্যাট ট্রেনিং নেওয়ার ধক থাকে আর যদি ফ্রন্টে যাওয়ার হিম্মত থাকে - তাহলে দায়িত্ব নিয়ে আর্মিতে ভল্যান্তিয়ার হন গে - কেউ বারণ করবে না আপনাকে| সেটা সোস্যাল মিডিয়ায় 'যুদ্দুউউউ' বলে লম্বা হাঁকাড় ছাড়ার থেকে অনেক বেশি কাজের কাজ হবে|

নয়তো সেই ফায়ার কর্মীর মতো আপনাকেও কেউ বলতে পারে "ঝামেলা বাড়াবেন না - আমাদের কাজ আমাদের করতে দিন|"

আমি ভগবানের জোকার - আপনাদের এন্টারটেনার - 'ভুলবকা' - এটাই আমার কাজ, আর সেটা করতে গিয়ে জনগণ, যদি আমার পোস্ট মারফত আপনার ফেসবুকি দেশপ্রেম থেকে গজানো যুদ্ধকামী মরমে আঘাত লাগিয়ে ফেলি কোনো ভাবে - ক্ষমা করবেন - হ্যা?

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অন্যলোকের মেসেজ

 ১ “নমস্কার, মোবিকমে আপনাকে স্বাগত| আমি শুভ্রা – আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি?” “নমস্কার নমস্কার – আমার নাম দেবাংশু লাহিড়ি, আমার নম্বর … মানে এটাই, যেটা থেকে আপনাকে কল করছি|” “হ্যা বলুন …” “দেখুন, আমার সমস্যা হলো – কদিন থেকে আমার মোবাইলে অনবরত মেসেজ ঢুকছে|” “আচ্ছা?” “হ্যা – মানে কোনো মাথামুন্ডু নেই – যতসব হিজিবিজি|” “আচ্ছা? কোনো বিশেষ নম্বর থেকে, নাকি …?” “না, নম্বর বা সেরকম কিছু নয়” “আচ্ছা, বিজ্ঞাপন বা প্রমোশনাল মেসেজ যেরকম? মানে মেসেজে কি থাকছে আমাকে জানাতে পারেন কি? তাহলে …” “না না, কোম্পানির মেসেজ যেমন কোনো লেখা থেকে আসে, নম্বর থেকে নয় – সেরকমও না কিন্তু| মানে পুরোটাই হিজিবিজি ধরনের – এ বি সি ডি এক দুই তিন চার – এরকম …” “আচ্ছা?” “ … ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে, মানে আপনাকে বোঝাতে পারছি না – যখন মেসেজ ঢোকা শুরু হচ্ছে তখন পাগল হয়ে যাওয়ার দশা!” “আচ্ছা? স্যার – আপনি একটু হোল্ড করবেন প্লিজ? তাহলে আমি আমাদের সিস্টেমে চেক করে আপনাকে জানাতে পারতাম আপনার নাম্বারে কোনো ভ্যাস এক্টিভেটেড আছে কিনা?” “সিওর সিওর – আমি ধরছি|” মোবাইলের ওপারে গান বাজনার আওয়াজ শুনতে শুনতে দেবাংশুবাবু ঘর থেকে বেরিয়ে ব্যাল...

দেন্দা

 “খ্র্যা-আ-আ-” ঘাড় ঘুরিয়েই নিচু স্বরে গর্জন করে উঠলো শিম্পাঞ্জিটা! রনদীপ পেশাদার খুনে, কিন্তু এরকম আচমকা প্রতিক্রিয়ার জন্যে তৈরী ছিল না সে| চমকে গেলেও এক মুহুর্তে নিজেকে সামলে নিলো সে| আর তাছাড়া তাদের অনুসরণকারী জীবটি যে মনুষ্যেতর, সেটা জানতে পেরেও তার স্বস্তি হলো অনেকখানি| শিম্পাঞ্জিটা লম্বায় ফুটচারেক, সাধারনের থেকে উচ্চতা সামান্য একটু বেশিই, সেকারণে ঝোপঝাড়ের আড়ালে তাকে মানুষ বলেই প্রায় ভুল করেছিলো সে| তার জন্যেই হাতের কম্যান্ডো নাইফটা এখনো তাক করা আছে তার দিকেই| শিম্পাঞ্জিটার নজর দ্রুত রনদীপের চোখ আর তার হাতের ছুরির দিকে যাতায়াত করতে করতে কি একটা হিসাব করছিলো| “শ্র্সস-ক্রর-র-র” ওয়াকিটকির ইয়ারফোনটা সরব হয়ে উঠলো, “ক্বয়ান টু রান্ডি, ক্বয়ান টু রান্ডি, ডু ইউ কপি? তোমার লোকেশন বলো, ওভার|” রনদীপ খানিক সময় দলছাড়া, তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাকে বলেছে যে কিছু একটা তাদের দলটাকে শেষ আধ ঘন্টা ধরে অনুসরণ করছে, কাজেই ঘুরপথে এসে সে আপাতত সেই অনুসরণকারীর সামনাসামনি| কিন্তু তার অনুপস্থিতি তার দল টের পাওয়ার কারণে টিম লিডার ক্বয়ান জিমের সাথে ওয়াকিটকিতে এর মধ্যে তার বেশ কয়েকবার যোগাযোগ হয়েছে| শিম্পাঞ্জিট...

বন্দী

ঝিঁ-ই-ই-ই আওয়াজ করে কোথাও একটা ঝিঁঝিপোকা একটানা ডেকে যাচ্ছে| প্রথমে আওয়াজটা সেরকম প্রকট না হলেও আস্তে আস্তে সেটার তীব্রতা বিরক্তিকর হয়ে উঠলে রণব্রত চোখ খুললো| চোখ খুলেও সে আলো-আঁধারির পার্থক্য বুঝতে পারলো না| কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে বোঝবার চেষ্টা করলো সে কোথায় আছে| তার মুখের উপর কাপড় জাতীয় কিছু লেপ্টে আছে – যেটার কারণে তার নিঃস্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছে| ঘাড় ঝাঁকি দিয়ে সেটা ফেলে দেবার চেষ্টা করতে গিয়ে ঝিঁঝি পোকাটা আরো জোরে ডেকে উঠলো| রণব্রত বুঝলো যে আসলে ঝিঁঝিপোকাটা আর কোথাও না, তার মাথার ভিতরেই বসে আছে| জ্ঞান ফেরার পরে এবার আস্তে আস্তে তার স্বাভাবিক বোধ ফিরে আসছে| তার হাত পায়ের সাড় ফিরলে সে অনুভব করলো যে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে| এরপরেই তাকে প্রবল আতঙ্ক চেপে ধরলো| চিত্কার করতে গিয়ে বুঝলো যে তার মুখ বাঁধা, তার আর্তনাদ গলার ভিতরেই গুঙিয়ে পাক খেতে লাগলো| বোবা গলায় গোঙাতে গোঙাতে হাত-পায়ে ঝাঁক দিতে দিতে সে বন্ধন মুক্ত হতে চাইলো| আর তার সাথে সাথেই সে আবিষ্কার করলো যে তার মাথার ভিতরের ঝিঁ-ঝিঁ শব্দটা এবার বন্ধ হয়ে গেছে| খানিক নিস্ফল চেষ্টার পরে এবার সে শান্ত হলো| শারীরিক মেহনতের ফলে তার ঝিম ধরা ভা...