সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

লাভ ফ্রম ইন্ডিয়া, ব্রাদার

জনগণ, অত্যন্ত চিন্তা ভাবনা করে লেখা মাথা-টাথা খাটিয়ে গুছিয়ে লেখা একটি পোস্ট - আমার কাছে হয়তো কিছুটা গুরুত্ব আছে বা নেই - আপনার কাছে নাও থাকতে পারে বা নাই থাকতে পারে, তাই সিরিয়াসলি পড়বার বা এমনিই পড়বারও কোনো প্রয়োজন নেই, যাকগে 😕

আপনি রামদুলাল দে সরকার নামের কাউকে চেনেন? না চিনলেও ক্ষতি নেই - আমিও চিনি না|

জাস্ট দুয়েকদিন আগে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে কর্তব্য কর্ম সম্পর্কিত এবং কিছুটা দেশ-সেবাটেবা ইত্যাদি ইত্যাদি নিয়ে ভাবা একটি অতীব অবান্তর 'ভুলবকা' পোস্ট লেখার পর থেকে প্রচুর সংশয়ে ছিলাম - আমি যা জানি বা ভাবি তা কি ঠিক জানি বা ভাবি?

হতেও পারে - নাও হতে পারে - জানি না|

জনগণ, ছেলেবেলা থেকে আমার খানিকটা পড়ার অভ্যাস ছিল| শুকতারা-তুকতারা - এই আর কি, হায়ার সেকেন্ডারি নাগাদ একটু আন্তেল হবো বলে কায়দা করে দেশ পড়তে শুরু করে হতাশ হয়ে আবিষ্কার হয়েছিলাম যে সে আমর পোষাচ্ছে না একদমই 😭 আমার মেধা বা বুদ্ধিমত্তা বয়সের সঙ্গে সেরকম উন্নত বা উন্নীত হওয়ার কোনো লক্ষনই খুঁজে পাইনি তারপর থেকে| সেকারণে ছেলে পিলের বইই আমার একমাত্র এন্তার্তেন্মেন্ট - যাকগে| তো যেটা ঘটনা - সেসময়ে এক গল্পে বেশ ফাইন একটা জিনিস পড়েছিলাম| বলি?

কোন এক জায়গায় কোন এক চার্চে রাতের বেলা পাদ্রী দেখে গ্রামের এক লোক মাদার মেরির সামনে মোমবাতির আলোয় জাগলিং দেখাচ্ছে! ব্যাস! ম্যান অফ গড খচে টং! পাগুলে-অশৈলী-অনাচ্ছিষ্টি কারবার! সে ব্যাটাকে ধরেবেন্দে রাখা হলো সেরাতের মতো - যাতে জাগলিংএর পর সে ভগবানের ঘরে আর নতুন কোনো সার্কাস না শুরু করে দেয়! পরদিন তার বিচার|

তো পরদিন গ্রামের লোকের সামনে তাকে যখন আনা হলো সে যা বললো সে শুনে সকলের আক্কেল গুড়ুম| জনগনের সেন্টিমেন্ট একাকার, পাদ্রীর চোখে জল, কোলাকুলি, মিষ্টি খাওয়া খাওয়ি - ইত্যাদি ইত্যাদি| কেন?

তার বক্তব্য - যেহেতু মাদার মেরির মধ্যে সে তার মাকে খুঁজে পায়, আর যেহেতু সে বাইবেলীয় মতে উপাসনা জানে না, সেকারণে তার একমাত্র বিদ্যা - জাগলিং - তাই দিয়ে মায়ের মনোরঞ্জন করে মায়ের মুখে হাসি দেখতে চেয়েছিলো| পুজো - তার নিজের বিদ্যেতে, নিজের মতো করে|

"আমি মন্ত্র-তন্ত্র কিছুই জানিনে মা|" 🙏

আমিও জানি না, আর আমার ভক্তিও সেই গল্পে পড়া লোকটির থেকে অ-নে-ক কম|

তো ধান ভানতে শিবের গাজন কেন? 🤨

নাঃ - আমার সেই 'যুদ্দু যুদ্দু' ভুলবকা পোস্টের পর কিছু কিচু মানুষ তাতে ইন্টারেক্ট করেছেন, আরো নতুন কিছু মানুষের কাছে সেটি পৌছে দিয়েছেন, অনেক মানুষ আমার দিকে বন্ধুত্বের হাতও বাড়িয়ে দিয়েছেন| কিন্তু খুব স্বস্তি যে 'দাগো নিউক' না বলার জন্যে আমাকে দেশদ্রোহী বলে দাগানো হয় নি, খিস্তিও উড়ে আসেনি তেমন, যেমন পরি শুনি তাতে করে অন্যান্যদের মতো আমাকে দেশছাড়া করবারও উদ্যোগ নেয় নি কেউ|

বোকা লোকের এই এক সুবিধে - বুদ্ধিমান মানুষ বুঝতেই পারে যে পরিস্থিতির গুরুত্ব না বুঝে ব্যাটা ভুল বকছে, তাই সহজে ক্ষমা ঘেন্নাও করে দেয়|

কিন্তু তাও জনগণ, মনে মনে হিসাবতো করতেই হয়, যে যেখানের আলো হাওয়ায় বাড়লাম, বুড়োলাম - কি করতে পারলাম সে জায়গার জন্যে?

হ্যা মানছি আপামর ভারতবাসীর মতো ক্লাস এইটে পুলিশ, ক্লাস টেনে এসে এয়ার ফোর্স, কলেজ পড়ার সময় আই.এ.এস, কলেজ থেকে বেরুনোর পর সিআইডি, সিবিআই, র - ন্যাহ চেষ্টা করিনি - কিন্তু হওয়ার কথা ভেবেছিলাম সামান্য| সোয়ার্জেনেগার থেকে টম ক্রূজ, মিঠুন-দা থেকে শুরু করে অক্ষয় কুমার - সবাই সমানে উদ্বুদ্ধ করে গেছিলো আমাকে - কিন্তু উহু - আমার যতো বাহাদুরি সব ছিল কাগজে কলমে 🥺 ইতিহাস থেকে শুরু করে অংক, বা পরের ফিজিক্স কেমিস্ট্রি'র প্রাক্তিলাল - গুডবয় থেকে পাওনিয়ার হতে চেয়ে হয়ে মিকাড হতে গিয়ে যা দেখেছি - লেখার চেয়ে হিজিবিজি করতেই বেশি মজা লাগে|

হ্যা জনগণ, এই অধম বেচারা খুব কষ্ট করে লেখাপড়া শিখেছে - কারণ লেখা পড়া করতে আমার কষ্ট হতো বেজায় 😂

তাও ছেলেবেলার খাতা মনে মনে ঘাঁটলে এখনো বেশ রোমাঞ্চ হয়| ঠিক লাইনে পড়তে পারলে কোল্ট বা কালাশনিকভের পরে হয়তো সুমিত রায়ের নাম থাকতো - হ্যা, ছোট-বড় বন্দুক বা লেজারগান বা প্রোটন কামান 'আঁকায়' ভয়ানক হিংস্র ছিলাম সেসময়!

কিন্তু?

রামদুলাল দে সরকার প্রাচীন কলকাতা বা বাংলা বা ভারতবর্ষের একজন বিখ্যাত ব্যবসায়ী| জনগণ যারা একটু লেখাপড়া করেন, তারা হয়তো ওনার সম্পর্কে আমার থেকে বেশি জানবেন আর যারা জানেন না, তারা দয়া করে একটু গুগ্লিয়ে নিন| বেশি লিঙ্ক হয়তো নাও পেতে পারেন, কিন্তু যা পাবেন , পড়লে আমার থেকে বেশিই জানতে পারবেন - প্রমিস|

আমার কথা যদি শোনেন, তবে বলবো ভদ্রলোক ঘ্য়াম্চ্যাক লোক ছিলেন| পয়সা ওয়ালা তো বটেই, সে তো ব্যবসা করলে হয়ই - এতে নতুন করে বলবার কিছু নেই, কিন্তু বুদ্ধি আর বিত্তের সঙ্গে ভদ্রলোকের একটি জিনিস ছিল বলে পড়েছি সেটা হলো সোজা মানসিকতা| যার জন্যে ইংরাজি না জানা সত্বেও আমেরিকান আর ব্রিটিশ ব্যবসাদাররা তাকে প্রচন্ড ভরসা করতেন| 'টুগেদার উই গ্রো|'

এক আমেরিকান তার একটি জাহাজের নাম রাম্দুলালের নামেই রেখেছিলেন পড়েছিলাম - ভাবা যায়?

দেশ ভক্তির সাথে এইসব অবান্তর গল্পের সম্পর্ক কি? আগেই সারেন্ডার করে রাখা - হ্যা আমি প্রচন্ড ভুল বকি| কাজেই ...

কাজেই নানা কাজের চেষ্টা করে, না পেরে, হতাশ হয়ে, হতাশা কাটিয়ে আবার হতাশ হয়ে পড়ে, 'রিবুট' করবার কথা ভেবে, সে সাহস না পেয়ে আবার হতাশ হয়ে, কত কিছু করে ভেবে দেখে শুনে এবং চিন্তে - না - চিন্তা করা ছেরেই দিয়েছি প্রায় বছর পনেরো ধরে - হা হা! যেটা করছি সেটা হলো যা ছেলেবেলা থেকে করতে ভালোবাসতাম - আঁকরি-বাকরি - ব্যাস| কন্ট্রোল নয় ভাই - স্যারেন্ডার| তারপর থেকে বেকার হয়ে গেলাম - এবং দেখলাম বেকার হওয়ার প্রচুর সুবিধে!

কিস্যু করতে হয় না - কেবল যেটা করতে ভালো লাগে সেটাই সারা দিন ধরে করা যায় - আর তাতেই দেখলাম চলে যেতে লাগলো বেশ|

অনেক আগে 'ভিনদেশী' কাজ পাওয়া যায় এরকম অনেক জায়গায় অনেক কাজে দেখতাম লেখা থাকতো - 'ভারতিয়েরা - এই কাজে এপ্লাই করবেন না!' জানি না কেন! পেশাদারিত্বের অভাব? ঠিক সময়ে ঠিক কাজ দিতে না পারার মতো তিক্ত অভিজ্ঞতা?

জনগণ আমি কোনো কোম্পানি নই, কিন্তু তাও অনেক ভিনদেশী বন্ধু আমায় জিজ্ঞাস করেন - 'এই কাজ দরকার - চেনা লোক আছে?' 'এই কাজ দরকার, কাউকে দিয়ে করিয়ে দিতে পারবে?' না - আমি ছোটখাটো সামান্য কারিগর, আমার চেনাশুনো বলতে কেবল আমি, তাও নিজেই নিজেকে তেমন চিনি না| কিন্তু তারা আমাকে ভরসা করেন| সব থেকে প্রাচীন খদ্দের থেকে নিয়ে শুরু করে একদম নব্য পরিচিত - তারা আমায় বিশ্বাস করেন|

আমি জানি আমি ফালতু হিজবিজবিজ করি - কিন্তু সেটাও হয়তো কারুর বই বেচতে, গল্প বলতে, প্রেজেন্টেশন দিতে - মানে সামগ্রিক ভাবে ধরতে গেলে তাদের চিন্তার চাক্ষুস রূপ দিতে সাহায্য করে কিছুটা| আর ওনারাও আমাকে সাহায্য করেন - অর্থনৈতিক ভাবেই| এই ব্যাস সম্পর্ক|

জনগণ জানেন যার যেটা তেমন থাকে না তার সেটারই লোভ প্রচন্ড| আমার সেই কারণে - 'টাকার' 😛

কিন্তু তাও - যখন কোনো ইংরাজি লেখক বলেন তার গল্পের একটি চরিত্রের নাম 'সুমিত', যখন কোনো চরিত্রের রেফারেন্স দিতে কোনো লেখক বলেন 'ধরে নাও তোমারই মতো' - এবং যখন এইসব ঘটনার আগে বা পরে তাকে আমি কোনভাবে কোনকিছু ডিসকাউন্ট দিই নি বা দিয়ে থাকি না ...

হয়তো নিজেকে কিছুটা ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে রামদুলাল দে সরকারের মতো করেই কল্পনা করে নিতে পারি? পারি কিনা?

নাঃ - নিজের কৃতিত্বের ব্যাখ্যান দিতে চাই জনগণ, সে আমার বেশি কিছু নেইও |

তবে যেটা দাবি করে বলতে পারি - যখন কোনো ভিনদেশী মানুষ আমায় যোগাযোগ করেন, তখন আমার পরিচয় কেবল সুমিত রায় না, কেবল ScorpyDesign না, কেবল একজন ইলাস্ট্রেটর, কার্টুনিস্ট বা ক্যারিকেচারিস্টও না, তার সঙ্গে আমার দেশের পতাকাও আমার প্রোফাইলের নিচে দেখা যায়, আমার শহরের নামও| যখন সেই ভিনদেশী আমার সাথে যোগাযোগ করেন তখন তিনি তার দেশকে রিপ্রেজেন্ট করেন - আর আমি আমার দেশকে| হ্যা জনগণ - বলতেই পারেন ব্যাপারটা বড্ড বাড়াবাড়ি রকম ভুল বকছি| কিন্তু 'ভারতীয়রা এই কাজের জন্যে এপ্লাই করবেন না' - এই ঘেন্না ঘোচানোর দায়িত্ব আমারও আছে - আমারই আছে, কেন না সেই ভিনদেশির কাছে আমিই ভারত|

ভারতবর্ষ চিপ ফ্রিল্যান্সার খোঁজবার জায়গা - উহু - ভারতবর্ষ ট্রু প্রফেশনালদের খনি - এটা প্রমান করার দায়িত্ব আছে আমার - সারা দুনিয়ার কাছে|

'জয়হিন্দ', 'ভারত মাতা কি জয়', না - এসব বলতে হয় না আমায় আমার দেশভক্তি, দেশপ্রেম বোঝানোর জন্যে বা দেশসেবা প্রমান করতে গেলে| 'বেস্ট উইশেস ফ্রম ইন্ডিয়া' এটা লিখলেই আমার দেশের শুভেচ্ছা সেই ভিনদেশীদের কাছে পৌঁছয় - যাদের সাথে আমার হয়তো সারাজীবনে কোনদিনই দেখা হবে না - সেইসব অচেনা অজানা কিন্তু খুব চেনা মানুষের ছেলেপিলেরা হয়তো তাদের ছেলেপিলেদের বলতে পারে 'এ গাই ফ্রম ইন্ডিয়া হ্যাড ইলাস্ট্রেটেড ডাড'স বুকস' - আমি তখন না থাকলেও জানবো যে সেই ইন্ডিয়াকে তার কাছে আমিই পৌছে দিচ্ছি|

ন্যাহ - বড্ড ইমোশনাল বুকনি হয়ে যাচ্ছে মনে হয়| হয়তো অতটা বাড়বাড়ন্ত করতে পারি নি এখনো - হয়তো পারবোও না - কিন্তু চেষ্টা তো করতে পারি, তাই কিনা? আপনিও - তাই কিনা? সবাই - পারে না কোনভাবে? পারে? পারতেও তো পারে - ঠিক?

হ্যা - যেমন ধরছেন - একদম ঠিক, হিজিবিজি করা বা বকা ছাড়া কোনো ক্যালি নেই আমার - ঠিক সেই গল্পে পরা সার্কাস করা লোকটার মতোই, সে সেভাবে তার মেরীমাকে পুজো করেছিলো - আমি আমার মতো করে কিছুটা যদি ... খুব কি কম হয়ে গেলো?

ও হ্যা - যারা প্রথমে 'যুদ্দু যুদ্দু' আশা করে এই লম্বা পোস্ট পড়া চালু করেছিলেন - তারা নিরাশ হচ্ছেন বেজায় বুঝতেই পারছি| কিন্তু আমি একজন ভিতু মানুষ হয়ে যেটা বুঝি ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় দুপক্ষেরই বেজায় ক্ষয়ক্ষতি, কিন্তু প্রতিযোগিতাটা যদি দক্ষতার হয় - লাভবান হয় সবাই - যারা প্রতিযোগিতায় নামছেন না তারাও হয়তো| কোল্যাটারাল প্রফিট? কি জানি 🙃

'লাভ ফ্রম ইন্ডিয়া ব্রাদার'

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অন্যলোকের মেসেজ

 ১ “নমস্কার, মোবিকমে আপনাকে স্বাগত| আমি শুভ্রা – আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি?” “নমস্কার নমস্কার – আমার নাম দেবাংশু লাহিড়ি, আমার নম্বর … মানে এটাই, যেটা থেকে আপনাকে কল করছি|” “হ্যা বলুন …” “দেখুন, আমার সমস্যা হলো – কদিন থেকে আমার মোবাইলে অনবরত মেসেজ ঢুকছে|” “আচ্ছা?” “হ্যা – মানে কোনো মাথামুন্ডু নেই – যতসব হিজিবিজি|” “আচ্ছা? কোনো বিশেষ নম্বর থেকে, নাকি …?” “না, নম্বর বা সেরকম কিছু নয়” “আচ্ছা, বিজ্ঞাপন বা প্রমোশনাল মেসেজ যেরকম? মানে মেসেজে কি থাকছে আমাকে জানাতে পারেন কি? তাহলে …” “না না, কোম্পানির মেসেজ যেমন কোনো লেখা থেকে আসে, নম্বর থেকে নয় – সেরকমও না কিন্তু| মানে পুরোটাই হিজিবিজি ধরনের – এ বি সি ডি এক দুই তিন চার – এরকম …” “আচ্ছা?” “ … ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে, মানে আপনাকে বোঝাতে পারছি না – যখন মেসেজ ঢোকা শুরু হচ্ছে তখন পাগল হয়ে যাওয়ার দশা!” “আচ্ছা? স্যার – আপনি একটু হোল্ড করবেন প্লিজ? তাহলে আমি আমাদের সিস্টেমে চেক করে আপনাকে জানাতে পারতাম আপনার নাম্বারে কোনো ভ্যাস এক্টিভেটেড আছে কিনা?” “সিওর সিওর – আমি ধরছি|” মোবাইলের ওপারে গান বাজনার আওয়াজ শুনতে শুনতে দেবাংশুবাবু ঘর থেকে বেরিয়ে ব্যাল...

দেন্দা

 “খ্র্যা-আ-আ-” ঘাড় ঘুরিয়েই নিচু স্বরে গর্জন করে উঠলো শিম্পাঞ্জিটা! রনদীপ পেশাদার খুনে, কিন্তু এরকম আচমকা প্রতিক্রিয়ার জন্যে তৈরী ছিল না সে| চমকে গেলেও এক মুহুর্তে নিজেকে সামলে নিলো সে| আর তাছাড়া তাদের অনুসরণকারী জীবটি যে মনুষ্যেতর, সেটা জানতে পেরেও তার স্বস্তি হলো অনেকখানি| শিম্পাঞ্জিটা লম্বায় ফুটচারেক, সাধারনের থেকে উচ্চতা সামান্য একটু বেশিই, সেকারণে ঝোপঝাড়ের আড়ালে তাকে মানুষ বলেই প্রায় ভুল করেছিলো সে| তার জন্যেই হাতের কম্যান্ডো নাইফটা এখনো তাক করা আছে তার দিকেই| শিম্পাঞ্জিটার নজর দ্রুত রনদীপের চোখ আর তার হাতের ছুরির দিকে যাতায়াত করতে করতে কি একটা হিসাব করছিলো| “শ্র্সস-ক্রর-র-র” ওয়াকিটকির ইয়ারফোনটা সরব হয়ে উঠলো, “ক্বয়ান টু রান্ডি, ক্বয়ান টু রান্ডি, ডু ইউ কপি? তোমার লোকেশন বলো, ওভার|” রনদীপ খানিক সময় দলছাড়া, তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাকে বলেছে যে কিছু একটা তাদের দলটাকে শেষ আধ ঘন্টা ধরে অনুসরণ করছে, কাজেই ঘুরপথে এসে সে আপাতত সেই অনুসরণকারীর সামনাসামনি| কিন্তু তার অনুপস্থিতি তার দল টের পাওয়ার কারণে টিম লিডার ক্বয়ান জিমের সাথে ওয়াকিটকিতে এর মধ্যে তার বেশ কয়েকবার যোগাযোগ হয়েছে| শিম্পাঞ্জিট...

বন্দী

ঝিঁ-ই-ই-ই আওয়াজ করে কোথাও একটা ঝিঁঝিপোকা একটানা ডেকে যাচ্ছে| প্রথমে আওয়াজটা সেরকম প্রকট না হলেও আস্তে আস্তে সেটার তীব্রতা বিরক্তিকর হয়ে উঠলে রণব্রত চোখ খুললো| চোখ খুলেও সে আলো-আঁধারির পার্থক্য বুঝতে পারলো না| কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে বোঝবার চেষ্টা করলো সে কোথায় আছে| তার মুখের উপর কাপড় জাতীয় কিছু লেপ্টে আছে – যেটার কারণে তার নিঃস্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছে| ঘাড় ঝাঁকি দিয়ে সেটা ফেলে দেবার চেষ্টা করতে গিয়ে ঝিঁঝি পোকাটা আরো জোরে ডেকে উঠলো| রণব্রত বুঝলো যে আসলে ঝিঁঝিপোকাটা আর কোথাও না, তার মাথার ভিতরেই বসে আছে| জ্ঞান ফেরার পরে এবার আস্তে আস্তে তার স্বাভাবিক বোধ ফিরে আসছে| তার হাত পায়ের সাড় ফিরলে সে অনুভব করলো যে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে| এরপরেই তাকে প্রবল আতঙ্ক চেপে ধরলো| চিত্কার করতে গিয়ে বুঝলো যে তার মুখ বাঁধা, তার আর্তনাদ গলার ভিতরেই গুঙিয়ে পাক খেতে লাগলো| বোবা গলায় গোঙাতে গোঙাতে হাত-পায়ে ঝাঁক দিতে দিতে সে বন্ধন মুক্ত হতে চাইলো| আর তার সাথে সাথেই সে আবিষ্কার করলো যে তার মাথার ভিতরের ঝিঁ-ঝিঁ শব্দটা এবার বন্ধ হয়ে গেছে| খানিক নিস্ফল চেষ্টার পরে এবার সে শান্ত হলো| শারীরিক মেহনতের ফলে তার ঝিম ধরা ভা...