সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

চাঙ্গা থাকার রহস্য

মা বা গিন্নী, দুজনের কাউকেই বিশ্বাস করানো যায় না যে ইদানীন মুদিওয়ালা ব্যাটারা ব্যাপক সেয়ানা হয়েছে, বা টুকটাক মুখ চালানোর মতো জিনিষগুলির দাম বেজায় বেড়েছে| এই যেমন ধরুন না, সকালে মা এক প্যাকেট বেকারী বিস্কুট আনলো, এখন শেষবারের মতো কৌট হাতড়াতে গিয়ে যদি দেখি আর মাত্র গোটা পাঁচেক পড়ে আছে! আমি তো মানতেই পারি না যে সামান্য কয়েকবার মুখ চালানোর জন্যে রাত বারোটা থেকে এই ভর সাড়ে চার্টের মধ্যে এক প্যাকেট বিস্কুট হাওয়া! মনে হয় পরিমানে কমই ছিল - চোখের ভুলে ওটা আস্ত একটা প্যাকেট বলে বোধ হচ্ছিলো! দিনকাল খু-উ-ব খারাপ!


তো যেদিন যেদিন এরকম মুখরুচির যোগান থাকে না - মানে স্বাভাবিক ভাবেই চানাচুর, বাদাম, ঝালমুট - এইসব জিনিষ আজকাল তেমন টেঁকসই না হওয়ার কারণে শরীরের দিকটাও তো দেখবার প্রয়োজনে নিজের দ্বায়িত্ব নিজেকেই নিতে হয়| মা আর গিন্নী সারাদিন খেটেখুটে ঘুমোয়, আর আমি বেচারা পেটের দায়ে চোরের মতো রাত জেগে বসে থাকলেও ভোর রাতে তো আর নাবালকের মতো 'খিদে পেয়েছে - খিদে পেয়েছে' করে আবদার করা যায় না!

সুতরাং ...

উপকরণ : ডিম, পেয়াঁজ, লঙ্কা, আনাজ পত্তর যা যা মন চায়, হাতে গড়া বা এমনি পাউরুটি| লবন, হলুদ ও লঙ্কা গুড়ো আন্দাজ মতো, এর সাথে মশলার কৌট হাতড়ে যা যা খাওয়া যেতে পারে সব কিছু|

পদ্ধতি : পেয়াজ লঙ্কা শুদ্ধু প্রথমে শাক-সবজি হ্যান-ত্যান যা জোগাড় করা গেলো সব গুছিয়ে কুচিয়ে নিন| একটা বাটিতে সেইসব কুচো ঢেলে তাতে লবন, হলুদ আর লঙ্কা গুড়ো দুফোটা তেল সহযোগে ঘেঁটে নিন| ফ্রাইঙ প্যানে সামান্য তেল ঢেলে গরম হলে তাতে যা যা মশলা দিতে ইচ্ছে হয় সেই সব ফোড়ন দিন| মশলা গন্ধ ছাড়া শুরু করলে ভেবে দেখুন ঘটনা কোন দিকে যেতে পারে| নিরাপদ মনে হলে এবার বাটির পাঁচমিশেলি মালপত্তর ফ্রাইঙ প্যানে ঢেলে দিয়ে মহানন্দে নারতে থাকুন| এর মাঝেই সময় করে একটা বাটিতে ডিম ভেঙ্গে তাতে আরেকটু লবন ছিটিয়ে ঘাঁটতে থাকুন| সাবধান - জনগনের প্রতি সতর্কবাণী : ডিমের খোলা কিন্তু মোটেই ভক্ষ্য নয়, কাজেই সেটিকে এই রেসিপির বাইরে রাখুন| এবার ফ্রাইঙ প্যানের আধ-ভাজা জিনিসপত্তর বাটিতে উপুড় করুন| ডিম ও তারসাথে যা হাবি-যাবি মেশানো হলো সেসব একসাথে ঘেঁটে ঘন্ট করুন - যদি দেখেন যে এজিনিস সহজে ফ্রাইঙ প্যানে চালান করা সম্ভব নয়, তবে প্রয়োজন মতো দুধ বা দৈ বা সেরকম কিছু যোগ করে খানিক পাতলিয়ে নিতে পারেন - চিন্তা নেই! দরকারে ফ্রাইঙ প্যানে আর খানিক তেল ঢেলে এবার সেই অদ্ভুত মিশ্রণ পাতিয়ে ছড়িয়ে ঢেলে দিন| একপিঠ ভাজা হয়ে গেলে কায়দাবাজি না করে খুন্তি দিয়ে উল্টিয়ে অন্য পিঠ ভেজে দেখবার চেষ্টা করতে পারেন|

রুটি বা পাউরুটিতে সামান্য সস বা কেচাপ দাগিয়ে, তার উপর একেকফালি অমলেট পাতিয়ে, তার উপর টমাটো-শসা বা ফলফুলুরির কুচি সাজিয়ে তার উপর খানিক চাট মশলা ছড়িয়ে খেয়ে-দেয়ে চাঙ্গা আছি আজ অব্দি|

আমি আবার বাড়িতে বাসী জিনিষ রাখবার পক্ষপাতি নই|

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অন্যলোকের মেসেজ

 ১ “নমস্কার, মোবিকমে আপনাকে স্বাগত| আমি শুভ্রা – আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি?” “নমস্কার নমস্কার – আমার নাম দেবাংশু লাহিড়ি, আমার নম্বর … মানে এটাই, যেটা থেকে আপনাকে কল করছি|” “হ্যা বলুন …” “দেখুন, আমার সমস্যা হলো – কদিন থেকে আমার মোবাইলে অনবরত মেসেজ ঢুকছে|” “আচ্ছা?” “হ্যা – মানে কোনো মাথামুন্ডু নেই – যতসব হিজিবিজি|” “আচ্ছা? কোনো বিশেষ নম্বর থেকে, নাকি …?” “না, নম্বর বা সেরকম কিছু নয়” “আচ্ছা, বিজ্ঞাপন বা প্রমোশনাল মেসেজ যেরকম? মানে মেসেজে কি থাকছে আমাকে জানাতে পারেন কি? তাহলে …” “না না, কোম্পানির মেসেজ যেমন কোনো লেখা থেকে আসে, নম্বর থেকে নয় – সেরকমও না কিন্তু| মানে পুরোটাই হিজিবিজি ধরনের – এ বি সি ডি এক দুই তিন চার – এরকম …” “আচ্ছা?” “ … ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে, মানে আপনাকে বোঝাতে পারছি না – যখন মেসেজ ঢোকা শুরু হচ্ছে তখন পাগল হয়ে যাওয়ার দশা!” “আচ্ছা? স্যার – আপনি একটু হোল্ড করবেন প্লিজ? তাহলে আমি আমাদের সিস্টেমে চেক করে আপনাকে জানাতে পারতাম আপনার নাম্বারে কোনো ভ্যাস এক্টিভেটেড আছে কিনা?” “সিওর সিওর – আমি ধরছি|” মোবাইলের ওপারে গান বাজনার আওয়াজ শুনতে শুনতে দেবাংশুবাবু ঘর থেকে বেরিয়ে ব্যাল...

দেন্দা

 “খ্র্যা-আ-আ-” ঘাড় ঘুরিয়েই নিচু স্বরে গর্জন করে উঠলো শিম্পাঞ্জিটা! রনদীপ পেশাদার খুনে, কিন্তু এরকম আচমকা প্রতিক্রিয়ার জন্যে তৈরী ছিল না সে| চমকে গেলেও এক মুহুর্তে নিজেকে সামলে নিলো সে| আর তাছাড়া তাদের অনুসরণকারী জীবটি যে মনুষ্যেতর, সেটা জানতে পেরেও তার স্বস্তি হলো অনেকখানি| শিম্পাঞ্জিটা লম্বায় ফুটচারেক, সাধারনের থেকে উচ্চতা সামান্য একটু বেশিই, সেকারণে ঝোপঝাড়ের আড়ালে তাকে মানুষ বলেই প্রায় ভুল করেছিলো সে| তার জন্যেই হাতের কম্যান্ডো নাইফটা এখনো তাক করা আছে তার দিকেই| শিম্পাঞ্জিটার নজর দ্রুত রনদীপের চোখ আর তার হাতের ছুরির দিকে যাতায়াত করতে করতে কি একটা হিসাব করছিলো| “শ্র্সস-ক্রর-র-র” ওয়াকিটকির ইয়ারফোনটা সরব হয়ে উঠলো, “ক্বয়ান টু রান্ডি, ক্বয়ান টু রান্ডি, ডু ইউ কপি? তোমার লোকেশন বলো, ওভার|” রনদীপ খানিক সময় দলছাড়া, তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাকে বলেছে যে কিছু একটা তাদের দলটাকে শেষ আধ ঘন্টা ধরে অনুসরণ করছে, কাজেই ঘুরপথে এসে সে আপাতত সেই অনুসরণকারীর সামনাসামনি| কিন্তু তার অনুপস্থিতি তার দল টের পাওয়ার কারণে টিম লিডার ক্বয়ান জিমের সাথে ওয়াকিটকিতে এর মধ্যে তার বেশ কয়েকবার যোগাযোগ হয়েছে| শিম্পাঞ্জিট...

বন্দী

ঝিঁ-ই-ই-ই আওয়াজ করে কোথাও একটা ঝিঁঝিপোকা একটানা ডেকে যাচ্ছে| প্রথমে আওয়াজটা সেরকম প্রকট না হলেও আস্তে আস্তে সেটার তীব্রতা বিরক্তিকর হয়ে উঠলে রণব্রত চোখ খুললো| চোখ খুলেও সে আলো-আঁধারির পার্থক্য বুঝতে পারলো না| কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে বোঝবার চেষ্টা করলো সে কোথায় আছে| তার মুখের উপর কাপড় জাতীয় কিছু লেপ্টে আছে – যেটার কারণে তার নিঃস্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছে| ঘাড় ঝাঁকি দিয়ে সেটা ফেলে দেবার চেষ্টা করতে গিয়ে ঝিঁঝি পোকাটা আরো জোরে ডেকে উঠলো| রণব্রত বুঝলো যে আসলে ঝিঁঝিপোকাটা আর কোথাও না, তার মাথার ভিতরেই বসে আছে| জ্ঞান ফেরার পরে এবার আস্তে আস্তে তার স্বাভাবিক বোধ ফিরে আসছে| তার হাত পায়ের সাড় ফিরলে সে অনুভব করলো যে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে| এরপরেই তাকে প্রবল আতঙ্ক চেপে ধরলো| চিত্কার করতে গিয়ে বুঝলো যে তার মুখ বাঁধা, তার আর্তনাদ গলার ভিতরেই গুঙিয়ে পাক খেতে লাগলো| বোবা গলায় গোঙাতে গোঙাতে হাত-পায়ে ঝাঁক দিতে দিতে সে বন্ধন মুক্ত হতে চাইলো| আর তার সাথে সাথেই সে আবিষ্কার করলো যে তার মাথার ভিতরের ঝিঁ-ঝিঁ শব্দটা এবার বন্ধ হয়ে গেছে| খানিক নিস্ফল চেষ্টার পরে এবার সে শান্ত হলো| শারীরিক মেহনতের ফলে তার ঝিম ধরা ভা...