সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আহা! কি তামাশা!

বন্ধুগণ : একটা মজার জিনিস খেয়াল করেছেন আশাকরি - আমার সিনেমা সমালোচনা করার স্বভাব থাকলেও গত শুক্কুরবার যা যা সিনেমা রিলিজ হয়েছে আমার কাছে তার কোনো ফর্দ পাবেন না| ইনফ্যাক্ট আমি নিজেও ওসব খেয়াল রাখি না কখনো|

কিন্তু মাঝে মাঝেই দুয়েকটা তুলনামূলক ভাবে পুরনো সিনেমা নিয়ে তেড়েফুঁড়ে দুয়েক প্যারা লিখে ফেলেই দিই কোনো ভাবে| কেন?

রহস্যটা হলো - ছেলেবেলায় ও বদভ্যেস থাকলেও শেষ কবে সিনেমা হলে হই হই করে সিনেমা দেখতে গেছি খেয়াল নেই| আবার সেরকম কিছু একটা হলেই তড়িঘড়ি করে চেয়ে-চিন্তে বা নেট-ফেট থেকে যাহোক করে নামিয়ে-টামিয়ে দেখে নিতেই হবে - সেরকমও জেদ বা যুক্তি নেই আমার| এখন বাকি থাকে টিভি| এখন যা দশা তাতে করে ক-মাসের ভিতরেই টিভিতে সিনেমা পেয়ে যাই| আবার সেদিক থেকে দেখতে গেলে দুপুরে আর রাতে খেতে খেতে কটা খবরের চ্যানেল, একটু কার্টুন-ফার্টুন আর হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি-ডিসকভারি'র বাইরে সেরকম মন দিয়ে আর কিছু দেখা হয় না|
তবে, এইক ওদিক উল্টোতে-পাল্টাতে মাঝে মাঝেই মাঝখান থেকে কিছু সিনেমা এমন আটকে ধরে যে সেটা অন্তত দেবার না দেখে থাকা যায় না|

সেরকম আজকে আটকালাম 'তামাশা'য়!

আগে যখন হলে গিয়ে সিনেমা দেখার অভ্যেস ছিল, সেসময়ে 'লাভ আজ কাল' দেখেছিলাম মনে আছে| কার বানানো খেয়াল করতে গিয়ে সেসময়ে ইমতিয়াজ আলীর নামটা খেয়াল রেখেছিলাম| তারপরে সেভাবে মেপে মেপে প্রতিটা সিনেমা খেয়াল না করলেও 'দিল্লি ৬' টাও বড় পর্দায় দেখার সুযোগ হয়েছিল|

গিন্নীর সারাজীবনে কোনদিনে হলে গিয়ে সিনেমা দেখার সৌভাগ্য হয় নি - সেই আক্ষেপ মোচন করার জন্যে এক শনিবার '২২শে শ্রাবন' দেখতে গিয়ে বিরক্ত হলাম যে সিনেমা পাল্টে গেছে - কি এক বিদিগ্শ্রি পোস্টার 'রকস্টার'| ধ্যাত্তেরিকা বলে সিনেমা না গিয়ে এদিক ওদিক ঘুরে ফিরে চলে এলাম! যাকগে গিন্নী কিছদিন পরে টিভিতে '২২শে ..." দেখে নিলো আর আমি কি খুঁজতে খুঁজতে মাথায় হাত! 'রকস্টার' ওটাও তো ইমতিয়াজ আলীর! হাতড়ে মাত্রে জোগার করে দেখে নিতে বাধ্য হলাম!

ব্যাপারটা একটু লম্বা হয়ে যাচ্ছে বন্ধুগণ, ক্ষমা করবেন| তামাশা - আশা করি যারা দেখেছেন তাদের একদল বলবেন বেজায় বিচ্ছিরি সিনেমা - পুরো নামকরণের সার্থকতা আর একদল বলবেন মনোমুগ্ধকর এবং অবশ্যই পুরো নামকরণের সার্থকতা | তো আমাকে দয়া করে দ্বিতীয় দলে ফেলে দিন| মানুষ ভাবে একরকম, হয় একরকম আর মানুষ নিজেকে তৈরী করতে চাইলে সে তার নিজের মতো করেই তৈরী হয় - ইত্যাদি ইত্যাদি ফিলোজফি-টফির বুকনি মেরে নিজের অন্তসার-শুন্যতার পরিচয় নতুন করে আর দিতে চাই না| কিন্তু...

গল্প, গল্প-বলা, কুশীলব, কায়দা-কানুন? যেরকম হওয়ার দরকার তামাশা সেরকমই হয়েছে| দেড়বার দেখতে দেখতে মন খারাপ-ভালো ভালো-খারাপ - কি সুন্দর! আহা!

তবে ইমতিয়াজ আলীকে একটা চমত্কার মতলব বাতলাতে চাই, এবং সেটা অবশ্যই উনি ওনার 'বচপন' নামের সাপটিকে মেরে ফেলার আগেই - আছেন কি ওনার পরিচিত কেউ? তাহলে একটু ইন্ট্রো করিয়ে দিতে পারেন কি?

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অন্যলোকের মেসেজ

 ১ “নমস্কার, মোবিকমে আপনাকে স্বাগত| আমি শুভ্রা – আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি?” “নমস্কার নমস্কার – আমার নাম দেবাংশু লাহিড়ি, আমার নম্বর … মানে এটাই, যেটা থেকে আপনাকে কল করছি|” “হ্যা বলুন …” “দেখুন, আমার সমস্যা হলো – কদিন থেকে আমার মোবাইলে অনবরত মেসেজ ঢুকছে|” “আচ্ছা?” “হ্যা – মানে কোনো মাথামুন্ডু নেই – যতসব হিজিবিজি|” “আচ্ছা? কোনো বিশেষ নম্বর থেকে, নাকি …?” “না, নম্বর বা সেরকম কিছু নয়” “আচ্ছা, বিজ্ঞাপন বা প্রমোশনাল মেসেজ যেরকম? মানে মেসেজে কি থাকছে আমাকে জানাতে পারেন কি? তাহলে …” “না না, কোম্পানির মেসেজ যেমন কোনো লেখা থেকে আসে, নম্বর থেকে নয় – সেরকমও না কিন্তু| মানে পুরোটাই হিজিবিজি ধরনের – এ বি সি ডি এক দুই তিন চার – এরকম …” “আচ্ছা?” “ … ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে, মানে আপনাকে বোঝাতে পারছি না – যখন মেসেজ ঢোকা শুরু হচ্ছে তখন পাগল হয়ে যাওয়ার দশা!” “আচ্ছা? স্যার – আপনি একটু হোল্ড করবেন প্লিজ? তাহলে আমি আমাদের সিস্টেমে চেক করে আপনাকে জানাতে পারতাম আপনার নাম্বারে কোনো ভ্যাস এক্টিভেটেড আছে কিনা?” “সিওর সিওর – আমি ধরছি|” মোবাইলের ওপারে গান বাজনার আওয়াজ শুনতে শুনতে দেবাংশুবাবু ঘর থেকে বেরিয়ে ব্যাল...

দেন্দা

 “খ্র্যা-আ-আ-” ঘাড় ঘুরিয়েই নিচু স্বরে গর্জন করে উঠলো শিম্পাঞ্জিটা! রনদীপ পেশাদার খুনে, কিন্তু এরকম আচমকা প্রতিক্রিয়ার জন্যে তৈরী ছিল না সে| চমকে গেলেও এক মুহুর্তে নিজেকে সামলে নিলো সে| আর তাছাড়া তাদের অনুসরণকারী জীবটি যে মনুষ্যেতর, সেটা জানতে পেরেও তার স্বস্তি হলো অনেকখানি| শিম্পাঞ্জিটা লম্বায় ফুটচারেক, সাধারনের থেকে উচ্চতা সামান্য একটু বেশিই, সেকারণে ঝোপঝাড়ের আড়ালে তাকে মানুষ বলেই প্রায় ভুল করেছিলো সে| তার জন্যেই হাতের কম্যান্ডো নাইফটা এখনো তাক করা আছে তার দিকেই| শিম্পাঞ্জিটার নজর দ্রুত রনদীপের চোখ আর তার হাতের ছুরির দিকে যাতায়াত করতে করতে কি একটা হিসাব করছিলো| “শ্র্সস-ক্রর-র-র” ওয়াকিটকির ইয়ারফোনটা সরব হয়ে উঠলো, “ক্বয়ান টু রান্ডি, ক্বয়ান টু রান্ডি, ডু ইউ কপি? তোমার লোকেশন বলো, ওভার|” রনদীপ খানিক সময় দলছাড়া, তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় তাকে বলেছে যে কিছু একটা তাদের দলটাকে শেষ আধ ঘন্টা ধরে অনুসরণ করছে, কাজেই ঘুরপথে এসে সে আপাতত সেই অনুসরণকারীর সামনাসামনি| কিন্তু তার অনুপস্থিতি তার দল টের পাওয়ার কারণে টিম লিডার ক্বয়ান জিমের সাথে ওয়াকিটকিতে এর মধ্যে তার বেশ কয়েকবার যোগাযোগ হয়েছে| শিম্পাঞ্জিট...

বন্দী

ঝিঁ-ই-ই-ই আওয়াজ করে কোথাও একটা ঝিঁঝিপোকা একটানা ডেকে যাচ্ছে| প্রথমে আওয়াজটা সেরকম প্রকট না হলেও আস্তে আস্তে সেটার তীব্রতা বিরক্তিকর হয়ে উঠলে রণব্রত চোখ খুললো| চোখ খুলেও সে আলো-আঁধারির পার্থক্য বুঝতে পারলো না| কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে বোঝবার চেষ্টা করলো সে কোথায় আছে| তার মুখের উপর কাপড় জাতীয় কিছু লেপ্টে আছে – যেটার কারণে তার নিঃস্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছে| ঘাড় ঝাঁকি দিয়ে সেটা ফেলে দেবার চেষ্টা করতে গিয়ে ঝিঁঝি পোকাটা আরো জোরে ডেকে উঠলো| রণব্রত বুঝলো যে আসলে ঝিঁঝিপোকাটা আর কোথাও না, তার মাথার ভিতরেই বসে আছে| জ্ঞান ফেরার পরে এবার আস্তে আস্তে তার স্বাভাবিক বোধ ফিরে আসছে| তার হাত পায়ের সাড় ফিরলে সে অনুভব করলো যে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে| এরপরেই তাকে প্রবল আতঙ্ক চেপে ধরলো| চিত্কার করতে গিয়ে বুঝলো যে তার মুখ বাঁধা, তার আর্তনাদ গলার ভিতরেই গুঙিয়ে পাক খেতে লাগলো| বোবা গলায় গোঙাতে গোঙাতে হাত-পায়ে ঝাঁক দিতে দিতে সে বন্ধন মুক্ত হতে চাইলো| আর তার সাথে সাথেই সে আবিষ্কার করলো যে তার মাথার ভিতরের ঝিঁ-ঝিঁ শব্দটা এবার বন্ধ হয়ে গেছে| খানিক নিস্ফল চেষ্টার পরে এবার সে শান্ত হলো| শারীরিক মেহনতের ফলে তার ঝিম ধরা ভা...