সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

একদিনের জন্যে প্রচুর

খুউব সন্দেহের চোখে পাশে এসে দাঁড়ানো ভদ্রলোককে দেখে জিজ্ঞাস করলাম, "রঞ্জন মুখার্জি বাবু?"
সেই ভদ্রলোকও আমার প্রশ্নের উত্তরে আমায় জিজ্ঞেস করলেন, "সুমিত রায় বাবু?"

...

জনগণ জানেন আমি বেজায় আলসে মানুষ, সাধারণত নিতান্ত প্রয়োজন না থাকলে ঘরছাড়া হই না, কিন্তু আমন্ত্রণ কর্ত্তা যেখানে স্বয়ং জুরান নাথ, এবং যখন একই স্থানে নানা গুনিজন-সন্নিবেশের সম্ভাবনা, তখন সাধারণ নিয়ম ভেঙ্গে চার ঘন্টা আগে, মানে সকাল সাড়ে আটটায় ঘুম না ভেঙ্গে উপায় থাকে না| বলতে নেই গত বছর নভেম্বর আর এই নভেম্বর - রাজধানী যাওয়ার সুযোগ হলো এই এক বছর পরে - গন্তব্য কলেজ স্ট্রীটই, আর জীবনে এই প্রথমবার কফি হাউস ঢুকলাম|

দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই ভিড়ের মাঝে সেই চেনা মুখ দিব্যি হাত তুলে আমন্ত্রণ জানালেন| ফেসবুকে পরিচয় অনেক দিনের, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আমার পাঠানো ছিল, তিনি একসেপ্ট করতে আমি সবিনয় ধন্যবাদ জানালে উনি আন্তরিক ভাবেই আপন করে নিয়েছিলেন যিনি, সেই জুরান নাথ - প্রিয় জুরান-দা, বাস্তবেও একদম সেই একইরকম - আড্ডা শুরু হতে মনে করার কোনো উপায়ই থাকল না যে এটা সামনাসামনি আমাদের প্রথম সাক্ষাত|

আমার ট্রেন শিয়ালদা আউটারে থাকতেই অলক দাশগুপ্ত-দা ফোন করেছিলেন যে উনি কফি হাউসের দোরগোড়ায়| কিন্তু আমরা জমায়েত হতে তখনো ওনার খোঁজ না মেলায় জানতে পারলাম যে উনি কটি বইয়ের খোঁজে বাইরে ঘুরছেন| ওনার তত্বতালাশ শেষ হতে উনি এসে হাজির হলে আড্ডা জমে উঠলো| কেন 'রায় কাচাগের' পরে কোনো কমিকস বই হিসাবে বেরোচ্ছে না, বা 'বিচ্ছু'র জাদুশক্তি' কি শেষ হতে চলেছে - এই সব আলোচনা শুনতে শুনতেই আর দুজন চলে এলেন, শান্তনু ঘোষ আর সুমিত সেনগুপ্ত|

কফি, খাদ্য এবং ধোঁয়ার সঙ্গে অনেক ঘন্টা পেরিয়ে গেলো, এবং বলতে গেলে এটা মালুমই হলো না যে আমরা নানাদিকে ছিটিয়ে থাকা মানুষ, সকলের ভালোবাসার বিষয় যেহেতু সাধারণ, সেকারণে আড্ডা থেকে আলোচনা সবকিছুকে ছাপিয়ে একটা জিনিষই অনুভূত হলো - আত্মার টান|

আর দুজনের সাথে সাক্ষাতের সম্ভাবনা ও অভিপ্রায় ছিল, লেখক ও বন্ধু কৌশিক সাউ আর জয়দীপ চক্রবর্ত্তী, কিন্তু তারা কাজে আটকে থাকার দরুন সে সুযোগ না হলেও জুরান-দা'র মোবাইলে হিমাদ্রিকিশোর দাসগুপ্ত ভিডিও কল করার দরুন তার ভার্চুয়াল সান্নিধ্যে ধন্য হলাম|

আড্ডায় শেষে বেরিয়ে বাইরে এলোমেলো খানিক ঘুরে শান্তনু'র দেখিয়ে দেওয়া একটা রাস্তার ধারের ফুটপাথে বিছানো পুরনো বইয়ের গাদায় লোলুপ দৃষ্টিতে একগাদা পুরনো শুকতারা দেখছি, এমন সময় পাশে একজন ভদ্রলোক খুবই সন্দেহজনক দৃষ্টি নিয়ে এসে দাঁড়ালেন - আর এভাবেই ফেসবুকের গন্ডি পেরিয়ে সামনাসামনি আলাপ হয়ে গেলো রঞ্জন-বাবু'র সাথে! কয়েকদিন আগে একটা পোস্টে লিখেছিলাম বাস্তব জীবনে নেটওয়ার্কড বন্ধুদের সাথে মোলাকাত হওয়ার ভালো লাগার কথা| রঞ্জন বাবু'র বই এবং ছবি প্রীতির কথা সর্বজনবিদিত, কাজেই শেষবেলায় এই সমমনস্ক বন্ধুটির সাথে আকস্মিক সাক্ষাত আমার রাজধানী ভ্রমণের উপরি পাওনা|

...

শিয়ালদা ফিরে এসে শুভঙ্করের মেসেজ পেলাম, ওরা তখন কফি হাউসে আর আমার ফোন লাগছে না| এবারের মতো ওদের সঙ্গ থেকে বঞ্চিত হতে হলো| আশা করি শিগগিরিই আবার সব বন্ধুদের সাথে সামনা সামনি আলাপ হওয়ার সুযোগ হবে|

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সি৯এইচ১৩এন ও৩

- এভরিথিং ইস ওকে, বাট আই আফ্রেড দেয়ার ইজ সামথিং মিসিং| - মিসিং হোয়াট? ক্যান ইউ এক্সপ্লেন? - ওয়েল, আই থিংক দা কভার ল্যাকস দা প্যাশন ইট ডিমান্ডেড – ইউ নো হোয়াট আই মিন| - হুমম| আই আন্ডারস্ট্যান্ড| - সো উইল ইউ প্লিজ রিভিউ দিস ওয়ান্স? - ওকে, লেট মে ট্রাই| - থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ – এন্ড সো সরি ফর বিয়িং সো চুজি| - নো প্রবলেম এট অল| - থ্যাঙ্কস| বাই| - বাই – টক টু ইউ সুন :)

যুদ্দুউউউ

জনগণ, অন্যভাবে নেবেন না, অনেক দিন আগের একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই| তখন আমি বেসব্রিজে চাকরি করি, দমদমে ভাড়ায় থাকি - একদিন শেয়ালদা হয়ে ফেরবার পথে মহা শোরগোল! সাবওয়েতে আগুন!! মুভিখোর সাধারণ বাঙালির মতোই আমারও হিরোয়িক অবসেশন ছেলেবেলা থেকেই - ব্যাংকে গেলে ভাবি ডাকাত পড়লে বেশ হয় - সবাইকে বাঁচিয়ে বুকে গুলি খেয়ে হাসতে হাসতে মরবো - সবাই হাত তালি দেবে| ট্রেনে উঠলে ভাবি এক্সিডেন্ট হলে বেশ হয় - সবাইকে বাঁচিয়ে বুকে রড ঢুকে হাসতে হাসতে মরবো - সবাই হাত তালি দেবে| এমনকি স্কুলে ঢুকলেও ভাবি একটা ভূমিকম্প হলে বেশ হয় - সবাইকে বাঁচিয়ে মাথায় চাংগরের বাড়ি খেয়ে হাসতে হাসতে মরবো - সবাই হাত তালি দেবে| এবং পরদিন খবরের কাগজে নাম উঠবে - ব্যাস মানব জনম সার্থক| কিন্তু এমনই কপাল যে পুকুরের পাশ দিয়ে গেলেও একটা ছোটখাট ছেলে পিলে ডুবতে দেখি না যে তাকে সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপ দিয়ে বাঁচাবো - কি দুক্কু! আবার ওদিকে যেসব জিনিস সামনেই দেখি সেসব করতেও ইতস্তত করি! আমার এক বন্ধুর অনুরোধে একটি মেয়েকে একটি রাতের জন্যে আমাদের বাড়ি আশ্রয় দিতে পারি নি, মাঝরাতে বাইরে তার করুন আবেদন বালিশে আড়াল করার চেষ্টা করেছি - জানি না সে কি ছিল...

বন্দী

ঝিঁ-ই-ই-ই আওয়াজ করে কোথাও একটা ঝিঁঝিপোকা একটানা ডেকে যাচ্ছে| প্রথমে আওয়াজটা সেরকম প্রকট না হলেও আস্তে আস্তে সেটার তীব্রতা বিরক্তিকর হয়ে উঠলে রণব্রত চোখ খুললো| চোখ খুলেও সে আলো-আঁধারির পার্থক্য বুঝতে পারলো না| কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে বোঝবার চেষ্টা করলো সে কোথায় আছে| তার মুখের উপর কাপড় জাতীয় কিছু লেপ্টে আছে – যেটার কারণে তার নিঃস্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছে| ঘাড় ঝাঁকি দিয়ে সেটা ফেলে দেবার চেষ্টা করতে গিয়ে ঝিঁঝি পোকাটা আরো জোরে ডেকে উঠলো| রণব্রত বুঝলো যে আসলে ঝিঁঝিপোকাটা আর কোথাও না, তার মাথার ভিতরেই বসে আছে| জ্ঞান ফেরার পরে এবার আস্তে আস্তে তার স্বাভাবিক বোধ ফিরে আসছে| তার হাত পায়ের সাড় ফিরলে সে অনুভব করলো যে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে| এরপরেই তাকে প্রবল আতঙ্ক চেপে ধরলো| চিত্কার করতে গিয়ে বুঝলো যে তার মুখ বাঁধা, তার আর্তনাদ গলার ভিতরেই গুঙিয়ে পাক খেতে লাগলো| বোবা গলায় গোঙাতে গোঙাতে হাত-পায়ে ঝাঁক দিতে দিতে সে বন্ধন মুক্ত হতে চাইলো| আর তার সাথে সাথেই সে আবিষ্কার করলো যে তার মাথার ভিতরের ঝিঁ-ঝিঁ শব্দটা এবার বন্ধ হয়ে গেছে| খানিক নিস্ফল চেষ্টার পরে এবার সে শান্ত হলো| শারীরিক মেহনতের ফলে তার ঝিম ধরা ভা...